

ফজলুর রহমান-এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে প্রায় ১০ মিনিট অধিবেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন ফজলুর রহমান। বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না; করলে তা “ডাবল অপরাধ” হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান সরকারি দলের সদস্যরাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার একাধিকবার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হয়নি।
উত্তেজনার মধ্যে স্পিকার দাঁড়িয়ে বলেন, “সারা জাতি সংসদের কার্যক্রম সরাসরি দেখছে। সংসদ যদি বিধি অনুযায়ী না চলে, তাহলে এর অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংসদের আচরণে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম লজ্জিত হতে পারে।
বক্তব্য অব্যাহত রেখে ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের তুলনার সমালোচনা করেন এবং বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
শফিকুর রহমানফজলুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পরিচয় ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনুচিত এবং এটি অসংসদীয় আচরণ। তিনি ওই বক্তব্যের আপত্তিকর অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার ঘোষণা দেন, কোনো বক্তব্যে অসংসদীয় কিছু থাকলে তা পরীক্ষা করে কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সদস্যদের যুক্তির মাধ্যমে মতবিরোধ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এদিন অধিবেশনে জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা হয়। তবে জামায়াত প্রসঙ্গকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়ায় সংসদে।




