ধর্ম


ইমলামী গানে বিশ্বকে মুগ্ধ করা মাহের জেইন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ এপ্রিল ২০২৩, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

ইমলামী গানে বিশ্বকে মুগ্ধ করা মাহের জেইন
মুসলিম বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করা এক সুইডিশ গায়ক ও গীতিকার মাহের জেইন। যিনি গানের অসাধারণ ছন্দ আর সুরের মাধ্যমে ইসলামের শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্ব দরবারে।

ইসলামী সঙ্গিত শোনেন, অথচ তাকে চেনেন না, এমন লোক খুব কমই আছেন। জিন্স, জ্যাকেট আর মাথায় ড্যাপার ক্যাপ পরা এ যুবকের পুরো নাম মাহের মুস্তফা মাহের জেইন।

তার জন্মস্থান লেবানন, তবে বেড়ে উঠা, পড়াশোনা সবই সুইডেনে। মাত্র ৮ বছর বয়সে তার পরিবার পাড়ি জমায় সুইডেনে।

সুইডেনের স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

চাইলে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে কাটিয়ে দিতে পারতেন পুরোটা জীবন। কিন্তু সঙ্গীতের প্রতি ভালোলাগা তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়।

সে ভালোলাগার কারণেই ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু না করে সুইডেনের সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন তিনি।

এরপর একসময় নিউইয়র্কে পাড়ি জমান সঙ্গীত জগতে নিজের পাকাপোক্ত আসন গড়ার প্রত্যাশায়।

সেখানে গিয়ে কাজ করেছেন নামীদামী সব শিল্পীর সাথে। খুব দ্রুতই তার নাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে, বাড়তে থাকে তার ভক্ত সংখ্যা।

কিন্তু এতো কিছুর পরও কেমন যেন একটা শূন্যতা অনুভব করতেন তিনি। তার কেবলই মনে হতো, পশ্চিমে গাওয়া সব গান শুধু ভালবাসা আর প্রেমে ব্যর্থতাজনিত আঘাত নিয়ে। কিন্তু জীবনে তো আরো অনেক কিছু থাকে।

এই উপলব্ধি থেকে তিনি আবার সুইডেনে ফিরে আসেন এবং পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসন মেনে জীবনযাপন করতে সচেষ্ট হন।

কিন্তু তিনি গানের সঙ্গে, গানকে ভালবেসে বড় হয়েছেন। গান তার রক্তে মিশে গিয়েছিল। তাই গান না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বরং তিনি তার ধর্মীয় বিশ্বাসকে সামনে রেখে ভালো কিছু করার আশায় সেক্যুলার মিউজিক এবং সঙ্গীত প্রযোজনা ছেড়ে দেন।

তার প্রথম অ্যালবাম ‘Thank you Allah’ প্রকাশিত হওয়ার পরই তুমুল জনপ্রিয়তা এবং ব্যবসা সফলতা লাভ করে।

আর প্রথম এ্যালবামেই বাজিমাত করেন মাহের জেইন। পরিচিতি পান বিশ্বদরবারে। তার গান শুনতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসতে থাকেন ভক্তরা।

এরপর ধীরে ধীরে নিজের পরবর্তী এ্যালবামগুলো প্রকাশ করেন তিনি। সবগুলোই সারা বিশ্বে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

মাহের জেইন সাধারণত ইংরেজি ও আরবি ভাষায় গাইলেও ফরাসী, তুর্কি, মালয়, উর্দু এবং ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় বেশকিছু গান গেয়েছেন।

এদিকে কোটি মানুষের ভালোবাসা কুড়ানোর বিপরীতে ব্যাপক সমালোচনারও স্বীকার হয়েছেন মাহের জেইন।

মুসলমানদের অনেকেই মাহের জেইনে গানের সমালোচনা করেন। কারণ ইসলামী সংস্কৃতির রূপ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা আছে।

অনেকে ইসলামে গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ মনে করেন। অনেকে গান গাওয়া নিষিদ্ধ মনে করেন না, কিন্তু বাজনা বা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ মনে করেন।

জেইনও গানে মিউজিক ব্যবহার নিয়ে ভয় পেতেন যে মুসলিমরা এটা কিভাবে নেবে। পরবর্তীতে ইসলামের কোনো কোনো পণ্ডিত তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, যতক্ষণ গানের বিষয়বস্তু ঠিক আছে, ততক্ষণ এটি কোনো সমস্যা নয়।

আর তখন থেকেই তিনি আর থামেননি। তিনি দেখিয়েছেন, আধুনিকতা ইসলামের পথে বাঁধা নয়।

গানে মিউজিক ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম মাহের জেইনের গান শোনেন।

৪১ বছর বয়সী মাহের জেইন বাস্তব জীবনে বিবাহিত। ২০০৯ সালে স্ত্রী জে.আইশার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্তমানে এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই আছেন তিনি।



জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?

ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য

কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।