অবশেষে থামলো মরক্কোর জয়যাত্রা! আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ফ্রান্স!
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

কাতার বিশ্বকাপের শেষ সেমিফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। আর এরই মাধ্যমে থামলো মরক্কোর বিশ্বকাপ যাত্রা। ফ্রান্সের হয়ে গোল করেছেন থিও হার্নান্দেজ এবং বদলি হিসেবে নামা মুয়ানি। সেমির এই ম্যচে একাধিক গোল মিসের খেসারত দিয়েছে মরক্কো।এর আগে সবাইকে অবাক করে দিয়ে স্পেন এবং পর্তুগালের মত দলকে হারিয়ে আফ্রিকার একমাত্র দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিতে জায়গা করে নিয়েছিল দেশটি। তবে সে তুলনায় অনেকটা অনুমেয় ভাবে ফেভারিটের তকমা গায়ে লাগিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল ফ্রান্স। এবং যথারীতি সেরা চারে জায়গা করে নেয়।অনেক ফুটবল বোদ্ধার মতে গত রাতের ম্যাচে মুলত লড়াইটা ছিল ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমন ভাগ বনাম মরক্কোর পাহাড়সম রক্ষনভাগ।ম্যাচের একদম প্রথমদিকেই মরক্কোর রক্ষনকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয় দিদিয়ের দেশমের দল। ডিফেন্স লাইনের সামান্য ভুলে গোল রক্ষককে একা পেয়ে যান থিও হার্নান্দেজ।ডিফেন্স থেকে উঠে আসা এই লেফট ব্যাক বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক ভলিতে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ও জাতীয় দলের জার্সিতে দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান। তবে এর মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। মিডফিল্ডার আজেদিন উনাহির ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট রুখে দেন ফরাসি কিপার লরিস।তারপর একাধিক সুযোগ নষ্ট করে দুই দলই। ম্যাচের মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়েন আগের ম্যাচে চোট আক্রান্ত হওয়া মরোক্কান অধিনায়ক রোমান সাইস। এছাড়া ইনজুরির ফলে ম্যাচের ঠিক আগ মুহুর্তে একাদশ থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন মরক্কোর আরেক খেলোয়াড় নায়েফ আগুয়ের্দ।দ্রুত দলের দুই মুল খেলোয়াড়কে হারালেও ম্যাচে বেশ ভালো ভাবেই ঠিকে ছিল মরক্কো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তারা অনেকটাই কোনটাসা করে ফেলে ফ্রান্সকে।ম্যাচের ৪৪ মিনিটের মাথায় হাকিম জিয়েশের কর্নারে পুরো শরীর শুন্যে ভাসিয়ে গোলমুখে অসাধারন এক বাইসাইকেল শট নেন ইয়ামিক।তবে ভাগ্য এদিন সাথে ছিলনা মরক্কোর। বারে লেগে ফেরত আসে বল। এভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। তবে দিতিয়ার্ধে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে মরক্কো। খেলার এই পর্বের প্রথম বিশ মিনিট এক চেটিয়া আধিপত্য করেছে তারা। তবে ৫৪ এবং ৭৫ মিনিটে ফ্রেঞ্চ রক্ষনভাগের দৃঢতায় রক্ষা পায় কিলিয়ান এম্বাপ্পের দল।মরক্কো একাধিক মিস করলেও সুযোগ হাতছাড়া করেনি ফ্রান্স। ডিবক্সে এমবাপ্পের শট মরক্কোর এক খেলোয়াড়ের শরীরে বাঁধা পেয়ে চলে যায় ফাঁকায় দাড়ানো মুয়ানির কাছে।তাতে গোল করতে ভুল করেননি ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ওসমান ডেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নামা এই ফরোয়ার্ড। তিনি মাঠে নামার ৪৪ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেন।আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাত্র চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামা মুয়ানির এই গোল ছিল সাবস্টিটিউট হিসেবে নেমে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। আর এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় টানা দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা। ব্রাজিলের পর তারাই একমাত্র দল যারা টানা দিতিয়বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছে। আগামী রোববার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামের ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স মাঠে নামবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে অবশ্য ম্যাচটিতে গোল পাননি। তবে দুটি গোলেই ছিল তার এবং এন্টনি গ্রিয়েজম্যানের প্রত্যক্ষ অবদান।


