

শরিফুল ইসলাম এবং তৌহিদ হৃদয়কে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হলেও, পেসার তাসকিনকে খেলার অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে দল পেলেও, এবারও এই লিগে খেলা হচ্ছে না তাসকিনের।২০১৯ বিশ্বকাপের আগে একবুক হতাশা নিয়ে কেঁদেছিলেন তাসকিন। সেই অশ্রুকেই যেন শক্তি বানিয়ে আবার ফিরেছেন। লাল সবুজের দলের অপরিহার্য অংশ বানিয়েছেন নিজেকে। বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের নেতৃত্ব এখন তাসকিনই দেন। দুর্দান্ত পারফর্ম করে নজর কাড়ছেন ফ্রাঞ্চ্যাইজিগুলোর। আইপিএল, পিএসএল, এলপিএল, কত ফ্রাঞ্চাইজি থেকেই ডাক পেলেন তাসকিন!এক্ষেত্রে তাসকিন নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাববেন নাকি দুর্ভাগ্যবান? এসব লিগে ডাক পেলেও, যে খেলা হচ্ছে না তাসকিনের। বিসিবি আগলে রেখেছে দলের এই সেরা পেস বোলারকে। গত বছর আইপিএলে তাসকিনকে নেওয়ার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছিল আইপিএলের দুইটি দল। তাসকিনকে চেয়েছিল পিএসএলের দলও। আবুধাবি টি-১০ লিগে তো ড্রাফট থেকেই তাসকিন দল পেয়েছিলেন।কিন্তু কোনোটাতেই খেলতে যাওয়া হয়নি তাসকিনের। প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে ফ্রাঞ্চ্যাইজি লিগ খেলছেন আফ্রিকায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সম্মিলিত লিগ জিম-আফ্রো টি-১০। এখানে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন। মাত্র ২ ওভার করে বোলিংয়ের সুযোগ পান প্রতি ম্যাচে। তাতেই চোখ ধাধানো পারফর্ম করে চলেছেন তাসকিন। ফলে তার চাহিদাও বেড়ে গেছে।আফ্রিকায় বসেই প্রস্তাব পেয়েছেন শ্রীলঙ্কায় খেলার। তবে যাওয়া হচ্ছে না। কারণ বিসিবি তাসকিনকে অনুমতি দেয়নি। তাসকিনকে নিয়ে বিসিবির ভয় ইঞ্জুরিতে। দলের পেস বোলিং বিভাগের নেতা এখন তাসকিন। সেই সাথে খুবই চোট প্রবণ এই বোলার। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার চোটের সাথে সখ্যতা। আর মাস দুয়েক পরই বিশ্বকাপ। তাই তাসকিনের মতো সেনসিটিভ বোলারকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। তাসকিনকে অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার কারণেই বিসিবি তাকে যেতে দেয় না এই লিগগুলোতে।জিম-আফ্রো লিগের এই সময়ে যেহেতু কাছাকাছি বাংলাদেশ দলের কোনো খেলা নেই, তাই এখানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাসকিনকে। অপরদিকে, শরিফুলও কিন্তু চোট থেকে উঠেছেন বেশি দিন হয়নি। তবুও তাকে এলপিএল খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, তাসকিন ও শরিফুলের সাথে দ্বিমুখীতা করা হয়েছে। তবে তার মানে এই নয় যে, শরিফুলের প্রতি বিসিবি যত্নবান না। অবশ্যই শরিফুলের দিকেও দৃষ্টি আছে বিসিবির। কিন্তু আসলে বিসিবি এসব সিদ্ধান্ত নেয় অনেক ভেবেচিন্তে। মেডিকেল টিমের সাথেও আলোচনা করা হয়।হয়ত শরিফুলের ক্ষেত্রে মেডিকেলের সবুজ সংকেত ছিল, তাই অনুমতি পেয়েছেন এই পেসার। আর তাসকিনের ব্যাপারটি তো আগে থেকেই জানা, কেন তিনি অনুমতি পান না।


