

ফিফার পাঠানো অর্থে কেনাকাটায় যেসব অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে শাস্তি দিয়েছিল সেই রিপোর্ট নিয়ে অধিকতর তদন্ত করল বাফুফে। ফিফা অনিয়ম বের করতে চার বছর লাগিয়েছিল। আর বাফুফে অধিকতর তদন্ত শেষ করতে তিন মাস ব্যয় করল। গতকাল তদন্ত রিপোর্ট বাফুফেতে জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ এমপি রিপোর্ট জমা দিয়ে রিপোর্ট সংক্রান্ত কোনো কথা বলেননি। তিনি জানিয়েছেন, এখন বিষয়টা বাফুফের সভাপতির কাছে দেওয়া হয়েছে।’বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন সিলগালা রিপোর্ট খুলবেন দেখবেন এবং এটি বাফুফের পরবর্তী সভায় তুলবেন। তিনি বলেছেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছি এটা বাফুফের সভায় তোলা হবে। রিপোর্টে কি লেখা আছে তা না পড়ে আমি বলতে পারব না। সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাহী কমিটি। এখানে আমার কোনো অবজেকশন নেই।’ফিফা যে অনিয়মের কথা বলেছে সেখানে ফিফা নিজেই বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে নিষিদ্ধ করেছিল দুই বছরের জন্য। সেই সঙ্গে আরো চার-পাঁচ জনের কথাও উল্লেখ ছিল। কিন্তু ফিফা নিজে সেই ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। না দিলেও যারা যুক্ত ছিলেন তাদের মধ্য থেকে দুই জন ইতোমধ্যে বাফুফে থেকে পদত্যাগ করে চলে গেছেন। এরপরও আরো তিন জন রয়েছেন বাফুফেতে। এরা সরে না গেলেও এখনো সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা অপরাশেনস ম্যানেজার পদত্যাগ করে চলে যাওয়া মিজানুর রহমান, হিসাব বিভাগের প্রধান পদত্যাগ করে চলে যাওয়া আবু হোসেন, গ্রাস রুট ম্যানেজার হাসান মাহমুদ, পেশাদার লিগ কমিটির ম্যানেজার জাবেন বিন তাহের আনসারিরা নাকি সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। হাসান এবং জাবের ফিফার অফিসে গিয়েছিলে সোহাগের সঙ্গী হয়েছে। এদের বাইরে ফিফা থেকে বাফুফের প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজারের নামও উঠে আসছে। এছাড়াও বাফুফের অফিসে আরো একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্ত কমিটি সন্দেহ করেছে তারাও জড়িত অনিয়মে। তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে গুঞ্জন এদের সবাইকে চাকরি ছাড়তে হতে পারে। যদি উল্লেখিত নাম তদন্ত রিপোর্টে থেকে থাকে তাহলে বাফুফের সভায় সিদ্ধান্ত হবে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে কিনা। আর উপরোল্লিখিত কারো নামে যদি অভিযোগ না থাকে তাহলে বাফুফে কোন পথে হাঁটবে সেটাও সভায় সিদ্ধান্ত হবে। যারাই এসব বিষয়ে সংযুক্ত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণের কথা শোনা যাচ্ছে।


