

দারিদ্র্য, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও কুসংস্কার পেরিয়ে ভোলার তরুণী মহিমা বেগম মোবাইল প্রযুক্তি খাতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি ভোলার একটি মোবাইল সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং বিশেষ করে নারী গ্রাহকদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ির যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা মহিমার শৈশব কেটেছে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে। কৃষিশ্রমিক বাবার সীমিত আয়ে ১০ সদস্যের সংসার চালানো কঠিন ছিল। এসএসসি পাসের পর অর্থসংকটের কারণে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা তাঁকে নতুন পথের সন্ধান দেয়।
পারিবারিক সংকট ও সামাজিক কটূক্তির মধ্যেও প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মহিমা। ভোলার নবারণ সেন্টারের ‘আকতার মোবাইল টেলিকম’-এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। মাসে প্রায় ১৭ হাজার টাকা আয় করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন।
মহিমা জানান, একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্পের আওতায় তিনি ছয় মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। পাশের বাড়ির উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে পারেন তিনি। প্রশিক্ষণের শুরুতে জীবন দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কোর্সে অংশ নিয়ে যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও কুসংস্কার মোকাবিলার বিষয়ে ধারণা লাভ করেন।
মহিমা বলেন, “শুরুতে পরিবার ও সমাজের কিছু মানুষের কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হয়েছে। মেয়েদের এই ধরনের পেশায় কাজ করাকে অনেকে ভালোভাবে নিত না। তবে পরিবারের সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাস আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।”
মোবাইল সার্ভিসিং খাতে নারী হিসেবে কাজ করায় অনেক নারী গ্রাহক তাঁর কাছে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও মোবাইল নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নারী গ্রাহকদের বড় একটি অংশ তাঁর কাছেই মোবাইল সার্ভিস করাতে আসেন।
মহিমা বলেন, “অনেক নারী গ্রাহক মনে করেন, একজন নারী হিসেবে আমি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বুঝতে পারি। তাই তারা স্বস্তি নিয়ে আমার কাছে আসেন এবং অন্যদেরও পাঠান।”
তিনি আরও বলেন, “নারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় পাশে থাকতে পারছি, এটি আমার জন্য গর্বের।”
প্রশিক্ষক সাত্তার হোসেন বলেন, “মহিমা অত্যন্ত মনোযোগী শিক্ষার্থী ছিল। নিয়মিত উপস্থিতি ও শেখার আগ্রহ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এখন সে নিজের দক্ষতা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।”
মহিমার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে নিজের এলাকায় আধুনিক মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার গড়ে তোলা। সেখানে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলতে চান তিনি। পাশাপাশি ট্রেইনার হিসেবেও কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তাঁর।
মহিমার বাবা-মাও মেয়ের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা চান, মেয়ের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাক।
সদর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নারীদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক আস্থার ক্ষেত্রও শক্তিশালী হবে।
দারিদ্র্য ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে মহিমা বেগমের এই পথচলা এখন ভোলার অনেক তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ওজনে কারচুপি, মাছে কেমিক্যাল ও রং মেশানো, চিংড়িতে জেলি দিয়ে ওজন বাড়ানো এবং ক্রেতাদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
শুধুমাত্র বেসিক বেতন থাকে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ চাকরির শুরুতে বেসিক বেতন হবে ১১ হাজার টাকা, এরপর সময়ের সাথে সাথে বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইয়াবা সেবন ও ব্যবহারের অপরাধে মো. ফারুক নামে এক ব্যক্তির এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সাতক্ষীরার জেলার, তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
তাই বর্তমানে এখন অনেকেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ, তাদের বেতন, এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে কি কি যোগ্যতা লাগে, সেসব সম্পর্কে জানতে ভীষণ আগ্রহী। আর তাদের জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
অন্যান্য বাহিনীর মতো বাংলাদেশ ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেও বিভিন্ন পদ রয়েছে। এরমাঝে একদম মাঠ পর্যায়ের পদগুলোর নাম হচ্ছে ফায়ার ফাইটার, ডুবুরী, নার্সিং এটেন্ডেন্ট ইত্যাদি। এই তিন পদের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।