জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে চারটি হলে আবাসনের সুযোগ রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৮৫৮ জনের। ফলে মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশের বেশি ক্যাম্পাসের বাইরে মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ৮০৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৯ জন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ছাত্র হল ও দুটি ছাত্রী হল রয়েছে। এসব হলে মোট ২ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্র হলে মোট আসন রয়েছে ১ হাজার ৪৯৪টি। এতে প্রায় ৩১ দশমিক ০৯ শতাংশ ছাত্র হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, দুটি ছাত্রী হলে রয়েছে ১ হাজার ৩৬৪টি আসন। এতে প্রায় ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ ছাত্রী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের আসন সংকটের কারণে সহজে সিট পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় বর্ষে সিট পেলেও নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে থাকতে হয়। এমনকি স্নাতকোত্তর পর্যায়েও হলে সিট পেতে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। এরপরও অনেক শিক্ষার্থী হলের আসন পান না। আবাসন সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেস ও ভাড়া বাসায় থাকছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসন চাহিদাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য মেস ও ভাড়া বাসা। তবে এসব জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া, লোডশেডিং, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশনসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অনেকে জানান, বাড়ি ও মেসের ভাড়া আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক মেসের খাবারের মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান আফিফা বলেন, মেসের ভাড়া তুলনামূলকভাবে বেশি। ত্রিশাল এলাকার কথা বিবেচনা করলে এখানকার ভাড়া আমার কাছে কিছুটা বেশি মনে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভাড়া বহন করা বেশ কষ্টকর। লোডশেডিং এর সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যায় এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হয়। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় এই সমস্যা আমার জন্য আরও বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন মেয়ে হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া আশপাশের কয়েকটি মেসে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। মেসে আমরা মোবাইল, ল্যাপটপ, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে থাকি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় আমার এগুলি নিয়ে এক্সট্রা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ আসিফ আনাস জানান, লোডশেডিং সমস্যা সাথে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বাসা গুলার পরিবেশ ও মান অনুযায়ী ভাড়া বেশী। কোন কিছুর সুযোগ সুবিধা তেমন নেই বললেই চলে। বাসার কোন সুবিধা নেই আবার কিছু খারাপ বা নষ্ট হলে নিজেরা কোন দায়ভার নেয় না। বাড়িওয়ালাদের ব্যবহার শিক্ষার্থীবান্ধব না। এসব কারণে পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমাদের চারটি হল রয়েছে এবং আরও দুটি হল নির্মাণাধীন রয়েছে। আবাসিক সংকট রয়েছে, এ বিষয়ে আমি অবগত। আমরা এর আগেও প্রশাসনকে নির্মাণাধীন হল দুটি দ্রুত চালু করার জন্য জানিয়েছি। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, দ্রুতই হল দুটি চালু হবে। আশা করছি, হল দুটি চালু হলে আবাসিক সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।’ এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমি মনে করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে। আমাদের চারটি হলে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করতে পারে। এছাড়াও আমাদের নতুন দুটি হল তৈরি হচ্ছে। আমাদের নতুন এই দুটি হল সেপ্টেম্বর মাসেই হস্তান্তর করার কথা। আমরা আশা করি, এ বছরই সেখানে অ্যালটমেন্ট দিতে পারব। হলের প্রায় সব কাজই শেষ। আমরা ফার্নিচারেরও অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এই মাসে হল দুটি বুঝে পেলে সেখানে আরও ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হবে। এতে আমরা ৫০ শতাংশ আবাসন সুবিধার আওতায় চলে আসব।