দুইবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার ভাইভা পর্যন্ত গিয়েও সফল হতে পারেননি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম। ১৬তম ও ১৭তম বিজেএসে ভাইভা দিলেও চূড়ান্ত ফলে তাঁর নাম ছিল ‘নট রিকমেন্ডেড’। তবে ব্যর্থতায় থেমে না গিয়ে চালিয়ে যান প্রস্তুতি। অবশেষে তৃতীয় চেষ্টায় এসে ধরা দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম। গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে তাঁর এই সাফল্যের খবর প্রকাশ পায়।

সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, “লাখো কোটি শুকরিয়া মহান আল্লাহর দরবারে।” তাঁর ভাষ্য, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, নির্ঘুম রাত, অপেক্ষা, দুশ্চিন্তা, হতাশা এবং বারবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা।

citytouch 728-X-90

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৪ নম্বর সিংহেশ্বর ইউনিয়নের চাতুলিয়াকান্দা গ্রামের সন্তান শরিফুল। বাহিরশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে বাহিরশিমুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং হালুয়াঘাট শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবনে শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করে শরিফুল বলেন, “শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান, মূল্যবোধ ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।” নিজের সাফল্যের জন্য বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পরীক্ষার প্রস্তুতি, রাত জেগে পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মায়ের দোয়া, ত্যাগ, ভালোবাসা ও আমার প্রতি অটুট বিশ্বাসই ছিল এই দীর্ঘ পথচলার অন্যতম শক্তি। আজকের এই সাফল্য তাঁদের পায়ের কাছে উৎসর্গ করছি।”

এ ছাড়া পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ভাই-বোন, বন্ধু, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিভিন্ন সময়ে যারা সাহস, পরামর্শ, সহযোগিতা ও দোয়া করেছেন, তাঁদের অবদানও এই অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলে জানান শরিফুল।

বিজেএসে ব্যর্থ হওয়া পরীক্ষার্থী ও নতুনদের উদ্দেশ্যে শরিফুল বলেন, “১৬তম ও ১৭তম বিজেএসের পর যদি আমি থেমে যেতাম, তাহলে হয়তো ১৮তম বিজেএসের এই দিনটি আমার জীবনে আসত না। ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়। অনেক সময় ব্যর্থতা আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করে, ধৈর্যশীল করে এবং কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “তাই ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। একদিন হয়তো সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে। যারা প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নেবেন, তাদেরও বলব নিজের স্বপ্নের পেছনে লেগে থাকুন।”

ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সম্পর্কে শরিফুল ইসলাম বলেন, “এই অর্জনকে শুধু একটি পদ বা পরিচয় হিসেবে দেখতে চাই না। ন্যায়, সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি, মহান আল্লাহর কাছে সেই তাওফিক চাই।”

উল্লেখ্য, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন শরিফুল ইসলাম।