রাজধানীর শনিরআখড়ায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহিণী নারগিস আক্তার বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে মামলার আবেদন করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী মাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, নারগিস আক্তার জমি ও গাড়ি বিক্রি এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে পাওয়া সঞ্চয়ের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার হিসাবে জমা রাখেন। তিনি নিরক্ষর হওয়ায় ব্যাংকের কর্মকর্তারা চেক পূরণ ও টাকা জমার কাজে তাঁকে সহযোগিতা করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ লাখ টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁর চেক বই থেকে একটি অতিরিক্ত চেক রেখে দেন এবং ডিপিএস খোলার কথা বলে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে ৪ অক্টোবর হিসাবের ব্যালেন্স জানতে গেলে তাঁকে জানানো হয়, হিসাবে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৪ টাকা।
বাদীর অভিযোগ, ২৩ সেপ্টেম্বর ‘পজিটিভ পে ইনস্ট্রাকশন’ ফরম ব্যবহার করে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি চেকে ৮৫ লাখ টাকা গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এক আসামি পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে ওই টাকা তুলে নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার কর্মকর্তা মোহিত মোরশেদ, সৌরভ সাহা, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. গোলাম কিবরিয়াসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্য কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এ ছাড়া অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, তিনি কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে তাঁর অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এখন অভিযোগটি তদন্ত করবে পিবিআই।








