ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক প্রশস্তকরণের নামে দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন এবং তাঁর সহযোগী মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, রমাগঞ্জ ইউনিয়নের কার্তারহাট থেকে রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ থেকে এসব গাছ কাটা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কাটা গাছের মধ্যে রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। তাঁদের ধারণা, এসব গাছের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা।

প্রশাসনের হিসাবে ৬৪টি গাছ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে ৬৪টি গাছ কাটা হয়েছে। তদন্ত ছাড়া কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। প্রতিটি কাটা গাছের বিপরীতে ১০টি করে নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, কাটা গাছের সংখ্যা দুই শতাধিক। ফলে প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশাসনের হিসাব ও স্থানীয়দের বক্তব্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

জব্দ করা হয়েছে কিছু কাঠ

ঘটনায় স্থানীয় মনিরের একটি করাতকল থেকে কিছু কাঠ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে করাতকল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কাটা গাছগুলো বন বিভাগের আওতাধীন নয় এবং এ বিষয়ে তাঁদের কার্যালয়ে কোনো নথি নেই।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

সড়কের ঠিকাদার মো. সবুজও গাছ কাটার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে জানান, কাজ বন্ধ থাকায় কে বা কারা গাছ কেটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

গাছগুলোর মালিকানা, কাটার অনুমতি, প্রকৃত সংখ্যা ও কাঠ বিক্রির অর্থ নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।