ভারতের রাজস্থানে মাসে ১০ হাজার রুপি বেতনে চাকরি করেন ২২ বছর বয়সী এক যুবক। হঠাৎ নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখেন, সেখানে ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থের ওপর লেনদেন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিপুল অঙ্কের অর্থ দেখে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। কারণ, ব্যাংকের কারিগরি ত্রুটির কারণে তাঁর নিজের জমানো ৫৫ হাজার রুপিও সাময়িকভাবে আটকে যায়।
রাজস্থানের সিকার শহরের বাসিন্দা ওই যুবকের নাম সামির খান। তিনি সিকারের সালাসার বাসস্ট্যান্ডের কাছে নির্মল মেডিকেল পয়েন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
নিজের মুঠোফোনে প্রিপেইড রিচার্জ করতে গিয়ে তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স পরীক্ষা করেন। ব্যাংকিং অ্যাপে পিন নম্বর দিয়ে প্রবেশের পর দেখতে পান, তাঁর হিসাবের ব্যালেন্স শূন্য দেখাচ্ছে। পরে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থের ওপর উত্তোলন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিষয়টি সামির তাঁর নিয়োগকর্তা ধীরাজ শর্মাকে জানান। পরে তাঁরা দুজন সিকারের সাইবার পুলিশ স্টেশনে যান। পুলিশ তাঁদের সরাসরি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।
ব্যাংকে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, কারিগরি ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ত্রুটি সংশোধন করে এবং সামিরের অ্যাকাউন্টে সঠিক ব্যালেন্স ফিরিয়ে দেয়।
সামির খান বলেন, তাঁর ব্যাংক হিসাবে আগে প্রায় ৫৫ হাজার রুপি জমা ছিল। পরে জানতে পারেন, ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে নিজের জমানো টাকাও তুলতে পারছিলেন না তিনি। পরে পুলিশের সহায়তা নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হয়।
সামিরের নিয়োগকর্তা ধীরাজ শর্মা জানান, সামির জানুয়ারি থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং তাঁর মাসিক বেতন ১০ হাজার রুপি। সামির যখন ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার কোটি রুপির ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা জানান, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে যান।
ব্যাংকের কারিগরি ত্রুটির কারণে সামিরের হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থের তথ্য দেখা গেলেও ওই অর্থ তাঁর ছিল না। বরং ত্রুটির কারণে নিজের জমানো টাকাও সাময়িকভাবে আটকে যায়। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধান করে হিসাব স্বাভাবিক করে।








