উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে গত বছরের তুলনায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার কমেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থাকা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর দুর্বলতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ২ হাজার ৩৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ২ হাজার ২৩৮ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৩৯ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১৬ জন, যা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

অন্যদিকে, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২ হাজার ৫১৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেন ২ হাজার ৪৩৪ জন। পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর আগের বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৭৩৭ জন।

গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশীয় পয়েন্ট। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৭০ জন বা প্রায় ৫৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।

ফলাফল কমে যাওয়ার বিষয়ে অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল-কলেজে আসার আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পড়াশোনা ও পরীক্ষার ফলাফলে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সরাসরি পাঠদান, পারস্পরিক আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের যে গুরুত্ব রয়েছে, বাসায় বসে পড়াশোনার মাধ্যমে তার সম্পূর্ণ বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়।

শিক্ষার্থীদের আবার শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোথাও আস্থার ঘাটতি, আবার কোথাও শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

নিজেদের দুর্বলতার বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, অন্যের ওপর দায় চাপাতে চান না তিনি। বরং নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করতে চান। প্রতিষ্ঠানের যেসব দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জিপিএ পাওয়ার শর্ত থাকে। তবে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিজেদের স্কুল থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক নমনীয়তা রাখা হয়। জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও ভর্তির সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জিপিএ ৪ দশমিক ৫ না পেলে ভর্তি হওয়া যাবে না—এমন কোনো শর্ত আরোপ করা হয় না।

শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন কারণ রয়েছে উল্লেখ করে মাজেদা বেগম বলেন, কারও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি কম ছিল, কারও নির্দিষ্ট বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে, আবার কারও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা থাকতে পারে। এমনকি কিছু শিক্ষার্থী অনিয়মিত ছিল, কেউ কেউ নির্দিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণের সময় এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে ভালো ফল করানোর পরিবর্তে বিষয়বস্তু ভালোভাবে বোঝার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। কোনো বিষয় যথাযথভাবে বুঝতে পারলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। এ সক্ষমতা তৈরির জন্য পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।