‘উই ব্রিং আউট দ্য বেস্ট ইন ইউ’ স্লোগান নিয়ে ২০০২ সালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে যাত্রা শুরু করে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণামুখী জ্ঞানচর্চা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছে।
সেই পথচলা অব্যাহত রয়েছে। বদলে যাওয়া বিশ্ব, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং কর্মবাজারের নতুন চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান এডুর্যাঙ্কের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে তালিকায় তাদের অবস্থান ষষ্ঠ।
কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে ২০২৪ সালে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫তম এবং বেসরকারিগুলোর মধ্যে ৭ম ছিল স্টামফোর্ড। ২০২৫ সালে উঠে আসে ১৪তম ও ৬ষ্ঠ স্থানে। ২০২৬ সালে র্যাঙ্কিং দাঁড়ায় ২৫তম, বেসরকারিগুলোর মধ্যে ১১তম।
অভিজ্ঞ নেতৃত্ব
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস্-সাবের। তাঁর একাডেমিক প্রজ্ঞা, প্রশাসনিক দূরদর্শিতা ও শিক্ষাবিষয়ক অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের নতুন দিগন্তের দিকে এগোচ্ছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস
ঢাকার ডেমরার মান্ডা-মুগদায় গ্রিন মডেল টাউনে গড়ে উঠছে স্থায়ী ক্যাম্পাস। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা মেনে সেখানে সীমিত পরিসরে পাঠদান শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হবে। তখন আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, শিক্ষার্থীবান্ধব সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস পাবেন শিক্ষার্থীরা।
অনুষদ, বিভাগ ও প্রোগ্রাম
৫টি অনুষদের অধীনে ১৪টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। অনুষদগুলো হলো ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, আইন ও প্রকৌশল। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২৯টি প্রোগ্রাম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে আর্কিটেকচার, সিভিল, ইইই ও সিএসই ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ বিজ্ঞান, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাসি, আইন, বিবিএ, এমবিএ, ইংরেজি, অর্থনীতি, সাংবাদিকতা, ফিল্ম ও মিডিয়া এবং জনপ্রশাসন।
ইউজিসির অনুমোদনে নতুন যুক্ত হচ্ছে থিয়েটার স্টাডিজ, অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি। স্টামফোর্ড ইনস্টিটিউট অন অ্যাডিকশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের অধীনে চালু হচ্ছে মাস্টার অব অ্যাডিকশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন স্টাডিজ। পাশাপাশি চলছে জাপানি, রুশ ও চীনা ভাষা এবং আইইএলটিএস কোর্স।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পূর্ণকালীন শিক্ষক ২১১ জন, তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন পিএইচডিধারী। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চীন, জাপানসহ কয়েকটি দেশের প্রায় ৩০ জন শিক্ষক খণ্ডকালীন পাঠদান করান। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবীদের জন্য আছে বৃত্তির সুযোগ।
ল্যাব, লাইব্রেরি ও গবেষণা
হাতে-কলমে শেখার জন্য রয়েছে ৩৭টি বিভাগভিত্তিক ল্যাব। আছে ১০টি আর্কিটেকচার স্টুডিও এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে ৮টি পেশাদার ক্যামেরা ও ৫টি ভিডিও এডিটিং প্যানেল। ৫টি লাইব্রেরিতে ৪৮ হাজার বই এবং সাড়ে ৫ হাজার জার্নাল ও ম্যাগাজিন আছে। যোগ হয়েছে ই-রিসোর্সের বিশাল ভান্ডার।
গবেষণার কেন্দ্রে আছে রিসার্চ সেন্টার (এসইউআরসি)। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ, জৈব চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে কাজ চলছে। গবেষণা পর্যবেক্ষণ ও জার্নাল প্রকাশের ব্যবস্থাও আছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়েছে চুক্তি ও বিনিময় কর্মসূচি। প্রতিটি অনুষদ ও বিভাগ থেকে নিয়মিত জার্নাল বের হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রবন্ধ ছাপা হয় দেশি-বিদেশি জার্নালে।
গুণগত মান নিশ্চিতে গঠিত হয়েছে আইকিউএসি। হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেন্সমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম কাজ শুরু করা তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্টামফোর্ড। বিভাগে বিভাগে নিয়মিত কর্মশালা হয়, যেখানে প্রশিক্ষণ দেন ইউজিসির বিশেষজ্ঞরা।
পথের সাফল্য
২০১৪ সালে স্কোপাসের জরিপে ১৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্টামফোর্ড সম্মিলিতভাবে ২৪তম এবং বেসরকারিদের মধ্যে চতুর্থ স্থান পায়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন ৩৬ হাজার ৮২৯ জন। বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রায় ৪ হাজার।
যাঁদের স্বপ্নে শুরু
প্রয়াত অধ্যাপক এম এ হান্নান ফিরোজ এবং সদ্য প্রয়াত ফাতিনাজ ফিরোজ বৈশ্বিক মানের শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ২০০২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারাহনাজ ফিরোজ। স্বপ্নের সেই বীজ আজ ডালপালা মেলেছে। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এখন গবেষণা ও আধুনিক শিক্ষার পথে এগিয়ে চলা এক বিশ্বস্ত নাম।









