শেরপুর প্রতিনিধিঃমো.রাজন মিয়া
শেরপুরে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (৪২) নামে এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শেরপুর সদর উপজেলার হাওড়া খানবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল মিয়া শেরপুরের নকলা উপজেলার বারোমাইশা গ্রামের হাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। ২০ দিন আগে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।
আহত ব্যক্তিরা হলেন নকলা পৌরসভার হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান (৫০), হিসাব সহকারী আলমগীর হোসেন (৩২), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও দুলাল মিয়া (৬০)।
ফেরদৌসুর রহমানকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আলমগীর হোসেন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। শফিকুল ইসলাম ও দুলাল মিয়া শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর থেকে নকলাগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা হাওড়া খানবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শেরপুরগামী একটি বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সড়কের পাশে একটি ড্রামট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল।
সংঘর্ষে অটোরিকশার যাত্রী জুয়েল ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও চার যাত্রী। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, জুয়েল মিয়ার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি শেরপুর শহরে এসেছিলেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত চারজনের মধ্যে দুজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ থানায় আনার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নকলা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল হাসান আজাদ জানান, পৌরসভার হিসাবরক্ষক ও হিসাব সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিকেলে শেরপুর শহরে এসেছিলেন। বদলিজনিত কারণে পরদিন বিদায় নিতে যাওয়া তিন কর্মকর্তার জন্য উপহার কিনতে তাঁরা শেরপুরে আসেন। কাজ শেষে তিনি শহরের বাসায় ফিরে যান। পরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে আহত ফেরদৌসুর রহমানকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।








