নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের একাংশের জন্য সুখবর থাকলেও সবাই এর সুবিধা পাচ্ছেন না। আগামী রোববার থেকে চার মাসের বকেয়াসহ নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। তবে বেতন নির্ধারণের জটিলতার কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে বাড়তি বেতন পাচ্ছেন না। তাঁদের আপাতত পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। নতুন কাঠামোর বকেয়া অর্থ পেতে তাঁদের আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সবার বেতন এখনো নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবার জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

নতুন বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি সামনে এসেছে। কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তা বেশি বেতন পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতাসহ অন্যান্য হিসাবের কারণে মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থ বিভাগে আবেদন করেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো সুরাহা পাননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলেও সোমবার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি। কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আবেদনের সমাধান নির্ধারিত সময়ের আগে করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানা গেছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো এ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেননি।

কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে গ্রেডের স্বাভাবিক ক্রম, উচ্চতর গ্রেড এবং বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণে অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনার আইবাস++ সফটওয়্যার ব্যবহার করেও জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও জানাশোনার ঘাটতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতা সমাধানে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ১ নভেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়তি বেতন ও বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। বেতন নির্ধারণের জটিলতা নিরসন এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের একাংশকে পুরোনো কাঠামোতেই বেতন নিতে হতে পারে।