ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় বিক্ষোভ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আটকে পড়েছে শত শত যানবাহন, দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভান্নার এলাকার একটি কারখানা থেকে শ্রমিকেরা বের হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার হাজার হাজার শ্রমিকও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা লাঠি হাতে বিক্ষোভ করেন এবং ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে স্লোগান দেন।

মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে মৌচাক কাটার মাথায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকেরা ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল করতে দেবেন না।

শ্রমিকদের অবরোধে গাজীপুর থেকে বোর্ডঘর পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। সফিপুর, কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ফ্লাইওভারেও যানবাহন আটকে থাকে। এতে যাত্রীবাহী বাসে থাকা নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিসহ সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে শ্রমিকেরা আন্দোলনে যোগ দেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের বেতন সেই অনুপাতে বাড়েনি। জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।