নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার সংসদ সদস্যের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি ও সম্পাদিত বলে দাবি করেছেন এমপি আজিজ। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আবদুল আজিজ বলেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সম্পাদিত। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় এমপি আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাকে নাটোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শাকিলের জানাজার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীদের একাংশের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানের মুখেও পড়েন এমপি আজিজ। এ সময় তিনি বলেন, তাঁর ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তিনি ছেলের নয়, শাকিলের পাশে থাকবেন। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু হত্যার বিচার নিশ্চিত করার কথা বলেন। এমপি আজিজ নিহতের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণাও দেন।

শাকিল ইসলাম গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর তাঁর বাবা রবিউল করিম অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এদিকে শাকিলের জানাজার পর চাঁচকৈড় বাজারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুকে যুবদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।