সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নাম ব্যবহার করে সৌদি আরবকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি।
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট যেসব নথি প্রকাশ করেছে, সেগুলোর কিছু তথ্যকে প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে হুথিরা। এসব নথিতে সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এপস্টেইনকে কাবার গিলাফের কাপড় দিয়ে তৈরি একটি ট্যাপেস্ট্রি বা দেয়ালসজ্জা উপহার দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হুথিদের বক্তব্য, এপস্টেইনের সঙ্গে সৌদি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন যোগাযোগ সৌদি আরবের ধর্মীয় ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ প্রচারণার মাধ্যমে সৌদি আরবকে বিব্রত করার পাশাপাশি নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি।
বিবৃতি, ভিডিও, গান, বক্তৃতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের পোস্টের মাধ্যমে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে সৌদি আরব। অন্যদিকে, ওই সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।
মক্কাকে ঘিরে প্রচারণা
চলতি গ্রীষ্মে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হুথিদের এ প্রচারণা আরও জোরালো হয়েছে। এসব প্রচারণায় বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে গোষ্ঠীটি।
গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করে, হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে। তবে হুথিরা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কায় অবস্থিত কাবা মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র।
হুথিদের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত গোষ্ঠীটির সরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ‘যারা এপস্টেইনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।’
চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের পর কাবার গিলাফসংবলিত ট্যাপেস্ট্রি উপহার দেওয়ার তথ্য কিংবা হুথিদের অভিযোগ নিয়ে সৌদি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
আল-মাশাতের বক্তব্য হুথিদের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে নানা আঙ্গিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ইয়েমেনের কৌতুক অভিনেতা মুস্তাফা আল-মোমারি এ নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। এ ছাড়া ইয়েমেনের একজন ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পীও এ অভিযোগ নিয়ে গান রচনা করেন।
প্রচারণার সামনের সারিতে প্রভাবশালীরা
হুথিদের প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ২০২৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ইয়েমেনের কৌতুক অভিনেতা মুস্তাফা আল-মোমারি হুথি ও সৌদি আরবের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনাও করেছেন।
এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান। মার্কিন কর্মকর্তারা তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিলেন। তাঁর নাম হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতির বিভিন্ন বক্তৃতায়ও উঠে এসেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক বক্তব্যে আবদুল মালিক আল-হুতি বলেন, ‘এপস্টেইনের নথিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এসব নথি এমন একটি জায়নবাদী প্রজননকেন্দ্রের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।’
হুথিদের এ কৌশল কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে বলেও মনে হচ্ছে। এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ডানপন্থি পডকাস্টার জেক শিল্ডস অন্তত একটি ক্ষেত্রে হুথিদের দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন।
হুথিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বড় ভক্ত। আমার মনে হয়, তারা বেশ দুর্ধর্ষ।’








