ইউরোপে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৯ সালে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আবারও ইউরোপের অধিকাংশ দেশের মানুষকে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে স্থানীয় সময় অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে। এতে মানুষ এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সকালে আগে আলো ফুটবে এবং সন্ধ্যা নামবে আগেই।
বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের এই প্রথা ইউরোপজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক জনমত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ এ ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
এরপর ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বাতিলের প্রস্তাব ৪১০-১৯২ ভোটে পাস হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
মূল বিরোধের জায়গা হলো, ইউরোপের দেশগুলো স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন সময় রাখবে, নাকি শীতকালীন সময় চালু রাখবে। বিভিন্ন দেশে ভিন্ন সময়ব্যবস্থা কার্যকর হলে পরিবহন, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এর মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের কারণে বিষয়টি ইউরোপের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় পিছিয়ে পড়ে।
ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা চালুর পেছনে জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৯৭৬ সালে তেলসংকটের পর ফ্রান্সে গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করা হয়। পরে ১৯৮০ সালে পশ্চিম জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশও সময়ের সমন্বয় করতে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে বর্তমানে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ইউরোপের অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালেও একই দিনে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দিবালোক সাশ্রয়ী সময় শেষ হবে ১ নভেম্বর।
মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে মৌসুমি সময় পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেই।
সদস্যদেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী সময়ব্যবস্থা নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় ইউরোপে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা কবে বন্ধ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ফলে আপাতত আগের নিয়মেই বছরে দুবার সময় পরিবর্তন করতে হবে ইউরোপের অধিকাংশ দেশের মানুষকে।









