
নূরে আলম সায়মন:
আত্মহত্যা এখন আমাদের দেশের একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যার যে ট্রেন্ড তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো গবেষণা নেই বাংলাদেশে।
ফেসবুক লাইভে বা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রায় ৯০ শতাংশের পেছনেই কাজ করে নানা ধরনের মানসিক সমস্যা। হতাশা, অবসাদ, হেনস্তার শিকার, আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও পারিবারিক সংকটের কারণে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।
ফেসবুকে লাইভে বা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে যারা আত্মহত্যা করছেন তারা আসলে শেষ সময়ে সমাজ ব্যবস্থার প্রতি একটি বার্তা দিতে চায়। পরিচিত স্বজনদেরকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি মৃত্যুর আগে অন্যদের শেষ প্রতিক্রিয়া দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এমনটা করে তারা। সঠিক সময়ে এদের চিহ্নিত করা গেলে, প্রয়োজনীয় যত্ন আর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে হয়তো এসব আত্মহত্যা ঠেকানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিশুকাল থেকেই ব্যক্তিত্বের বিকাশ আর মানসিক শক্তি বাড়াতে অভিভাবকদের হতে হবে আরো সচেতন।
আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রবণতা অনেক বেশি । এক গবেষণায় দেখা যায়, শিক্ষা সংক্রান্ত চাপ, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, পারিবারিক অভিমান, প্রেমঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েন, একাকীত্ব, বেকারত্ব ইত্যাদি কারণে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
প্রায় চার মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী এলমা চৌধুরী শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছিলেন। যদিও প্রাথমিকভাবে ধরে নেয়া হয় তাকে হত্যা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ চার মাস তদন্তের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে, এলমাকে কেউ হত্যা করেনি বরং সে নিজেই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছিল।
ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, ডিজিটাল-ফরেনসিক প্রমাণাদি হাতে আসার পর আসামি ও স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম এলমাকে কেউ হত্যা করেনি বরং সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। তবে তাকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দিয়েছে তার স্বামী।
প্রসঙ্গত, এলমার স্বামী কানাডা থেকে দেশে আসার মাত্র তিন দিনের মাথায় গেল বছরের ১৪ ডিসেম্বর এলমার (২৬) মৃত্যু হয়। তবে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম পাওয়া গেছে।
এদিকে মৃত্যুর এক দিন পর এলমার বাবা সাইফুল রাজধানীর বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এলমার স্বামী ইফতেখার আবেদীন, শাশুড়ি শিরিন আমিন ও শ্বশুর মো. আমিনকে আসামি করা হয়। এই তিনজন পারস্পরিক যোগসাজশে এলমাকে হত্যা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।



