কক্সবাজার প্রতিনিধি:কক্সবাজারে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে এক অসুস্থ তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস।

তিনি জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগটি দুপুরে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত পাঁচজনসহ মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

citytouch 728-X-90

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের মধ্যম পোকখালীর রমজান আলী মেম্বারের ছেলে বর্তমানে ঈদগাঁওর ফকিরাবাজার এলাকায় বসবাসকারী ফিরোজ আহমদ (৪৭), লোদা মিয়ার দুই ছেলে রাসেল উদ্দিন (৩৮) ও নুরুল ইসলাম এবং ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের ফকিরা বাজার এলাকার মৃত আব্দুল গণির ছেলে মো. শরীফ। এছাড়াও আরো পাঁচজনকে তাদের সহযোগী হিসেবে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করে আসছিল ফিরোজ ও শরীফ। সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার আদালত পাড়ায় এক আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় তাকে জোর করে একটি নোহা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় ফিরোজ ও শরীফসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন। এ সময় তার গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে কক্সবাজার ল্যাবরেটরি স্কুল সংলগ্ন (বাহারছড়া) একটি টিনশেড বাসায় আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করেন ফিরোজ ও শরীফ। পরে নুরুল ও রাসেল নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণী রক্তপাত ও অজ্ঞান হলে রাসেল ও শরীফ তাকে বাসার গেটের বাইরে রেখে পালিয়ে যায়। তখন পথচারীরা এই দৃশ্য দেখে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন দিলে পুলিশ এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজার থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য।