
নিউমার্কেটের ঘটনায় পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি বলেন, পুলিশ যে কোন পরিস্থিতি আগে নিবৃত করার চেষ্টা করে। এজন্য আলোচনা সমঝোতার চেষ্টা করা হয় দুই পক্ষকে নিয়েই। নিউমার্কেটের ঘটনায় পুলিশ শুরু থেকেই কিন্তু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আক্তার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পুলিশ সব সময় চায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঠেকাতে। একটি মানুষের মৃত্যু তো দূরের কথা, কেউ যাতে আহত না হয় পুলিশ সেই চেষ্টা করে। কিন্তু গতকালের ঘটনায় একজন কুরিয়া সার্ভিস কর্মী অনাকাঙ্খিতভাবে মারা গেছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। যা কোনভাবেই কাম্য ছিল না। পুলিশ প্রথমে দুই পক্ষকে নিয়েই সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েছে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে দুই পক্ষকেই সরে যেতে অনুরোধ করেছে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। চেষ্টা করার পরও যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি তখন পুলিশ কঠোর হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের এডিসি হারুন অর রশিদ নিউমার্কেটের ঘটনায় রাবার বুলেট নিক্ষেপের নির্দেশ দেন। রাবার বুলেট শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্য একজন পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দেন। এ ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ছাত্ররা। তারা এডিসি হারুনের প্রত্যাহারও দাবি করেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডিবি প্রধান বলেন, ব্যবসায়ী-ছাত্রদের মধ্যকার সংঘাতের প্রথম রাতে কোন পরিস্থিতিতে এডিসির থাপ্পড় মারা ও গুলি শেষ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আপাতত পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাতেই মনোযোগী।
তিনি আরও বলেন, সামনে ঈদ, কালকের পরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা মনে করছি এই মুহূর্তে ছাত্র-ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের অবসান ঘটা উচিত। কারণ ঢাকা কলেজ একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানকার অনেক ছাত্র, যারা পড়াশোনা শেষ করে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সন্তানরাও কিন্তু স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। ছাত্ররা পড়াশোনা করবেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন।
ডিবি প্রধান বলেন, সারা বছর তেমন ব্যবসা হয় না, ঈদের এই সময়ের জন্যই ব্যবসায়ীরা সারা বছর অপেক্ষা করে বসে থাকেন। তাদেরও পরিবার রয়েছে। এই সময় যদি তারা ব্যবসা করতে না পারেন তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই তাদেরও উচিত জনগণের সাথে খারাপ ব্যবহার না করা। তাই আমরা উভয় পক্ষকে অনুরোধ করছি, সবাই সবার নিজের কনার চেষ্টা করা হয়েছে।


