

প্রতি বছর ঈদ এলেই পরিবহনগুলোতে সৃষ্টি হয় ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য। ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া। তাই ঈদে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মহানগরীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে বাসের ভাড়া তদারকিতে অভিযান শুরু হয় বলে দূরবীন নিউজকে জানান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও ঢাকা জেলার প্রধান আব্দুল জব্বার মণ্ডল।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল আট পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তার অধিকার আদায়ের কাজে নিয়োজিত থাকা সরকারি এই সংস্থাটি। কল্যাণপুর বাস কাউন্টার এবং গাবতলী বাস টার্মিনালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।
এ সময় কাউন্টারে প্রকাশ্যে ভাড়ার তালিকা না টাঙানোয় আট পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন তিনি। দণ্ড পাওয়া পরিবহনগুলো হলো- শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন, মানিক পরিবহন, নাবিল পরিবহন, চাঁপাই পরিবহন, গ্রামীণ পরিবহন, ঈগল পরিবহন ও সোহাগ পরিবহন।
মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ঈদে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারে তদারকি করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলায় এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তারই ধারাবাহিকতায় আজ (সোমবার) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এবং কল্যাণপুর বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আজ তদারকি করার সময় আমরা দেখার চেষ্টা করেছি, কাউন্টারগুলো প্রকাশ্যে ভাড়ার তালিকা দেন কিনা এবং বিআরটিএ কর্তৃক নভেম্বর-২০২১ সালের যে মূল্য দেওয়া আছে, সেটি অনুযায়ী তারা টিকেট দেন কিনা? অর্থাৎ, তারা যাত্রীদের কাছ থেকে টিকেটের মূল্য বেশি রাখছেন কিনা। অভিযানে প্রকাশ্যে ভাড়ার তালিকা না টাঙানোয় আজ আমরা ৮টি পরিবহনকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছি।
শাহরিয়ার বলেন, প্রতি বছর ঈদে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হন। তাদের কাছ থেকে কয়েকগুন বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। তাই আমরা আজকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমরা বাস কাউন্টারগুলোকে অনুরোধ করেছি, বিআরটিএর মূল্যের বাইরে কেউ যাতে বাড়তি ভাড়া না নেন। কেউ যদি যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেন এবং আমরা যদি এর প্রমাণ পাই, তাহলে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেব। এ ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করবো।
এবার ঈদে শুধু ঢাকা নয়, দেশের ৬৪ জেলায় অভিযান পরিচালনা করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া সমন্বিতভাবে এবার বাস, লঞ্চ এবং বিমানের ক্ষেত্রে তদারকি করবে সংস্থাটি।



