

কারাগারে না পাঠিয়ে জাতীয় পতাকা, ফুল আর ডায়েরি দিয়ে অভিযুক্ত শিশুদের সংশোধনের জন্য বাবা-মায়ের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন।
সোমবার দুপুরে ভাল কাজের ৯টি শর্ত বেঁধে দিয়ে এসব শিশুদের বাবা-মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। অভিভাবকদের ঝগড়া এবং ছোটখাটো চুরির মামলায় আসামি করা হয়েছিল এই ৭০ শিশু-কিশোরকে আসামি করা হয়েছিল। তারা নিয়মিত স্বজনদের সঙ্গে আদালতে হাজিরা দিতে আসত। শিশু বয়সে মামলার আসামি হওয়ায় তাদের মনে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল, তেমনি তাদের ভবিষ্যতও ছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে।
জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান বলেন, কোমলমতি শিশু-কিশোরদের শাস্তি না দিয়ে এ ধরনের রায় তাদেরকে শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন বিকশিত হতে সাহায্য করবে। আমরা আদালতের শর্তগুলো মানাতে তাদেরকে সহযোগিতা করব।
শিশু আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী (পিপি) হাসান মাহবুব সাদী বলেন, আদালত যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে শিশুরা তাদের আপন ঠিকানা ফিরে পেয়েছে। এর আগেও কয়েকটি মামলায় ১৩৩ জন শিশুকে প্রবেশনের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় পাঠিয়েছিলেন।
শিশুদের দেওয়া শর্তগুলো হলো- নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি প্রতিদিন কিছু ভালো কাজ করা এবং ডায়েরিতে তা লিখে রাখা, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, বাবা-মাসহ গুরুজনদের আদেশ মেনে চলা এবং বাবা-মায়ের সেবাযত্ন ও কাজে সাহায্য করা, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা এবং নামাজ আদায় করা, প্রত্যেককে কমপক্ষে ২০টি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা, অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা, মাদক থেকে দূরে থাকাসহ ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে না জড়ানো।
৯টি শর্ত পালন করা হচ্ছে কি না তা প্রবেশন কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতি তিন মাস পরপর আদালতকে জানাবেন।


