

ভুয়া এনআইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের জাল সার্টিফিকেট তৈরি এবং জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা গোলাম মোস্তফাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রতি রোহিঙ্গাসহ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য আত্মগোপনে থেকে নিজের নাম পরিচয় পরিবর্তন করে অসাধু চক্রের মাধ্যমে ভুয়া এনআইডি কার্ড পায়। সেই কার্ড ব্যবহার করে তারা পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন দেশে যাওয়ারও চেষ্টাও করে। সেই সূত্র ধরেই এই জালিয়াত চক্রকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা শিক্ষা সনদ; গুরুত্বপূর্ণ এসব কাগজের যেটাই প্রয়োজন পড়ুক, মুহূর্তেই তা জাল বানিয়ে দিত এই প্রতারক চক্রটি। প্রায় ১ যুগ ধরে তারা এ ধরনের জালিয়াতি করে আসছিল। প্রতিমাসে প্রায় ১০০টি এমন জাল লাইসেন্স তৈরি করে দিত এরা।
সোমবার র্যাব-৩ এর অভিযানে রাজধানীর মালিবাগ, বাসাবো, শাহজাহানপুর ও কোতয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. গোলাম মোস্তফা (৬০) এবং তার সহযোগী মো. জালাল বাশার (৫৪), মো. মুসলিম উদ্দিন (৬৫), মো. মিনারুল ইসলাম (মিন্নি) (২২)ও মো. তারেক মৃধাকে (২১) গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি কম্পিউটার, ২ হাজার ৪৬০টি বিআরটিএ এর জাল রশিদ, ২৬টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি ল্যাপটপ, একটি ক্যামেরা, ১৮টি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, ৮০টি সাদা রঙের প্লাস্টিকের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরির ব্ল্যাংক কার্ড, ৫০টি স্বচ্ছ কার্ড হোল্ডার, দুই রিল সিকিউরিটি লেমিনেটিং পেপার, একটি কার্ড প্রিন্টার, চারটি সফ্টওয়্যারের সিডি, চারটি পেনড্রাইভ, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২ হাজার ৮শ টাকা উদ্ধার করা হয়।
খন্দকার আল মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ৫-৭ জনের একটি চক্র বলে স্বীকার করেছে। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন নির্বাচন অফিস ও বিআরটিএ অফিসের সামনে অবস্থান করে গ্রাহকদের টার্গেট করতো। পরবর্তী সময়ে তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতারণা করতো। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে তারা হুবহু জাল প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও মানি রিসিট বিআরটিএ ও বিভিন্ন ব্যাংকসহ ভুয়া সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে গ্রাহককে প্রদান করতো।
একইভাবে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপেও চটকদার বিজ্ঞাপন পোস্ট করতো। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান তিনি।



