

বরিশালে সাংবাদিক মনির হোসেন রাঢ়ী হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির শাস্তি কমিয়েছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল রাঢ়ীর সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবনের রায় দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।
রোববার (২৭ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় দেন।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত এবং আসামি পক্ষে ছিলেন এসএম শাহজাহান। এছাড়া রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার রিমি নাহরিন।
২০১৬ সালে প্রথম এই মামলার রায় ঘোষণা করেন বরিশালের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সুদীপ্ত দাশ। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি ছিলেন রাসেলের বাবা আলাউদ্দিন রাঢ়ী। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে উচ্চ আদালতে এই মামলার আপিল করা হয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত সাংবাদিকদের জানান, ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানি শেষে আদালতের বিচারক রাসেলের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া এই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি আলাউদ্দিন কারাগারে মারা যাওয়ায় তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর বরিশালের মুলাদী উপজেলার মুলাদী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দিন ও তার ছেলেরা প্রতিবেশির বাড়ির চলাচলের পথ বন্ধ করতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছিলেন। এ সময় বিষয়টি মুলাদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনির হোসেন রাঢ়ীকে জানান ভুক্তভোগীরা।
মনির আলাউদ্দিনের চাচাতো ভাই। তিনি এসে প্রাচীর নির্মাণ না করতে অনুরোধ করলে আলাউদ্দিন ও তার সন্তানরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার সঙ্গে বাক বিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে আলাউদ্দিনের নির্দেশে মনিরের মাথায় কোদাল দিয়ে কোপ দেয় রাসেল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
এই ঘটনায় আলাউদ্দিন, তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও প্রতিবেশি মোতালেব রাঢ়ীর বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় মামলা করেন নিহত মনিরের ভাই জসিম উদ্দিন।



