বাংলাদেশ


এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: টেকসই উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি পেল ৫৯টি উদ্যোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: টেকসই উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি পেল ৫৯টি উদ্যোগ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চতুর্থ আসরে ১৯টি ক্যাটাগরিতে ৫৯টি উদ্যোগকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি উদ্যোগ বিজয়ী এবং ২৫টি উদ্যোগ অনারেবল মেনশন অর্জন করেছে।

 

সম্প্রতি রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজনটি করেছে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ। অনুষ্ঠানের টাইটেল পার্টনার ছিল আকিজ বশির গ্রুপ। কো-পার্টনার হিসেবে ছিল এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এবং বিজিএমইএ।

 

আয়োজকদের মতে, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশে অসামান্য অবদান রাখা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এনজিও ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কার্যকর উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতেই এই সম্মাননার আয়োজন করা হয়েছে।

 

এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন খাত থেকে মোট ৪৭২টি মনোনয়ন জমা পড়ে। জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পূর্ণাঙ্গ পরিধি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় নিয়ে ১৯টি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয় বহু-স্তরের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রাথমিক বাছাই শেষে সাতটি পৃথক গ্র্যান্ড জুরি সেশনে বিস্তারিত মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন খাতের ২৭ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে এমন এক সময়ে বিশ্ব দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি উদ্দেশ্যনির্ভর নেতৃত্বও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস এমন উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেয়, যারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য পরিবর্তন আনছে। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাহসী উদ্যোগকে উৎসাহিত করা, রূপান্তরমূলক চিন্তাকে বিস্তৃত করা এবং টেকসইতাকে ভবিষ্যতের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক মানদণ্ডে পরিণত করাই তাদের লক্ষ্য।

 

অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আগে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬-এর চতুর্থ আসর। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

 

সামিটে তিনটি কি-নোট সেশন, দুটি প্যানেল আলোচনা, তিনটি ইনসাইট সেশন, দুটি কেস স্টাডি, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ এবং একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় টেকসইতা কীভাবে ব্যবসায়িক মডেল পুনর্গঠন করছে, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করছে, তা তুলে ধরা হয়।

 

কি-নোট সেশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি দেশের সবুজ রূপান্তরে পুঁজি সঞ্চালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভার্চুয়াল সেশনে বক্তব্য দেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের প্রফেসর ইমেরিটাস ফিলিপ কটলার এবং কানাডার রেসইন্ট সাসটেইনেবিলিটি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খালিদ হাসান। তারা পুঁজিবাদের পরবর্তী বিবর্তন এবং টেকসই মূল্য সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শ্রামন ঝা টেকসইতাকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

 

অন্যান্য আলোচনায় উঠে আসে, টেকসইতা এখন ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি। ইনসাইট সেশনগুলোতে দায়বদ্ধতাকে অংশীদারিত্বমূলক মূল্যে রূপান্তর, তথ্য-উপাত্ত ও ইএসজি রিপোর্টিংয়ের গুরুত্ব এবং শক্তিশালী ইএসজি কাঠামোর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

 

প্যানেল আলোচনায় বোর্ডরুম থেকে ব্যবসার আর্থিক ফলাফলে টেকসইতাকে কীভাবে যুক্ত করা যায় এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কীভাবে বৈশ্বিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল ব্যবসার মানদণ্ড তৈরি করছে, তা তুলে ধরা হয়। কেস স্টাডিতে সবুজ প্রবৃদ্ধিতে কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা এবং টেকসইতা নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ সেশনে দেশের সাপ্লাই চেইনে দায়িত্বশীল ব্যবসার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়।

 

আয়োজনে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন (আইএএ) বাংলাদেশ, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ) এবং মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি)। পিআর পার্টনার ছিল ব্যাকপেজ পিআর, অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার ছিল টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং হসপিটালিটি পার্টনার ছিল র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ঢাকা।

 

 


সম্পর্কিত

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডসটেকসই উন্নয়ন

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সিলেটে শুরু বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৬’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের যৌথ উদ্যোগে ১৩ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৬’ শুরু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডে মহড়াটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

সুনামগঞ্জ কারাগারে বন্দির মৃত্যু, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে আক্কাস আলী (৪৮) নামে এক বন্দির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

স্টেডফাস্ট কুরিয়ারে পাঠানো ১৬ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার, আটক ২

রংপুরে বিশেষ অভিযানে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো ১৬ হাজার পিস অবৈধ নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লা থেকে পাঠানো চালানটির মূল নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীতে অনার স্মার্টফোনে বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক

স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। তবে সামান্য অসাবধানতা কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে এই প্রয়োজনীয় ডিভাইসই মুহূর্তে ভয়ংকর বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন ব্র‍্যান্ডের অন্তত চারটি স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছে।