

এবার বাংলাদেশে চলন্ত লঞ্চে সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছেন সন্তান ও মা উভয়েই।এই ঘটনায় নবজাতক এবং তার বাবা-মা কে আজীবন ওই লঞ্চে বিনামুল্যে যাতায়াতের ঘোষানা দিয়েছে কতৃপক্ষ। একই সঙ্গে সেই দম্পত্তিকে দশ হাজার টাকা উপহার হিসেবে দিয়েছেন লঞ্চ মালিক। বৃহষ্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি লঞ্চে এই ঘটনা ঘটে। সে রাতে সদরঘাট থেকে প্রিন্স আওলাদ নামে একটি লঞ্চে উঠেন ঝুমুর আক্তার নামের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী। ভাই ও ভাবীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের বাবার বাড়ি বরিশাল জেলা সদরের ষোলনা গ্রামে।নিচতলায় ডেকে অবস্থানকালে হঠাতই প্রসব বেদনা শুরু হয় ঝুমুর আক্তারের। তখন তাকে লঞ্চের কেবিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু তিনি সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তাই তাৎক্ষণিকভাবে ডেকের সব পুরুষ যাত্রীকে সরিয়ে চারদিকে কাপড় টানিয়ে দেওয়া হয় lএই সময়ে ব্যাকুল হয়ে স্বজনেরা চলন্ত লঞ্চেই যাত্রীদের মধ্যে খোজ শুরু করেন ডাক্তার এবং নার্সের। তবে পাওয়া যায়নি স্বীকৃত কোন ডাক্তার এর সহয়তা। এগিয়ে আসেন পল্লী চিকিৎসক এক যাত্রী। তাকে সহয়তা করেন নার্স এবং ধাত্রী সহ আরো ৭ জন নারী যাত্রী।ঔষুধ এবং প্রাথমিক চিকিতসা দ্রব্যাদি এগিয়ে দিয়ে সহয়তা করেন লঞ্চের স্টাফেরা। মজুদ থাকা প্রাথমিক চিকিতসা দ্রব্যাদি উন্মুক্ত করে দেয় লঞ্চ কতৃপক্ষ।এরপর লঞ্চের আরো বেশ কিছু যাত্রী এক পাশে বিছিয়ে দেন চাদর এবং সন্তান সম্ভবা ঝুমুরের চারপাশ ঘিরে আড়াল করে ফেলেন কাপড় দিয়ে।অবশেষে মা ঝুমুর আক্তারের কোল আলো করে রাত ১ টার দিকে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর নাম রাখা হয় ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। রাত একটা বেজে ৭ মিনিটে ইব্রাহিমের জন্ম হলে সস্তি নেমে আসে লঞ্চ জুড়ে। এর আগে সকলের মধ্যেই কাজ করছিল এক চাপা উত্তেজনা। প্রিন্স আওলাদ ১০ নামক লঞ্চটিতে এমন ভাবে নবজাতকের জন্ম হওয়ায় খুশি লঞ্চ কতৃপক্ষ। লঞ্চে মা ও সন্তানকে ১০০০০ টাকা নগদ অর্থ পুরষ্কার দেন তারা। একই সাথে সুপারভাইজার সদ্যোজাত শিশুর পরিবারের জন্যে আজীবন লঞ্চটিতে যাতায়াত ভাড়া ফ্রি ঘোষানা করেন। প্রসুতি ঝুমুরের মা বলেন, আর্থিক সংকটের কারনে মেয়েকে সময় মত বাসায় নিতে পারেননি। প্রসবের নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১৮ দিন আগে নদী পথে মায়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন ঝুমুর।তার স্বামী আর্থিক ভাবে খুবই দৈন্য দশায় যাচ্ছেন। তবে লঞ্চ কতৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রসুতির পরিবার খুশি হলেও, তারা বলেন প্রাথমিক চিকিতসার অপ্রতুলতা রয়েছে বাংলাদেশের লঞ্চ গুলোতে।জামালপুরের শশুর বাড়ীতে বসবাস করেন ঝুমুর। তার স্বামী হারিসুর রহমান নরায়নগঞ্জে এক মুরগীর দোকানের কর্মচারী। ঝুমুরের বাবার বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার রয়পাশার ষোলনা গ্রামে। সন্তান সম্ভবা হওয়ায় মায়ের সাথে থাকতে বাবার বাড়ি আসছিলেন তিনি। সদ্যোজাত ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ তার তৃতীয় সন্তান। বাংলাদেশে চলন্ত যানে সন্তান প্রসবের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশ।



