

ডিজেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সাথে কমেছে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দামও।গতকাল এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপণ জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সোমবার মধ্যরাত থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।কমানোর পর ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১০৯ টাকা, অকটেন ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১২৫টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১০৯ টাকায় নেমে এসেছে।সম্প্রতি ডিজেল আমদানিতে সরকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর কমিয়েছে। দেশের মানুষকে স্বস্তি দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।আগে ডিজেল আমদানি করতে ৩৪% কর দিতে হতো। বর্তমানে সেটা কমিয়ে ২২.৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয় নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্র বলছে, গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে ৬৯ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু ডিজেল বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৪৮ লাখ টন। আর পেট্রল ৪ লাখ ৪৬ হাজার এবং অকটেন ৩ লাখ ৯৩ হাজার টন বিক্রি হয়েছে। মূলত ডিজেলের দাম বাড়া-কমার কারণে পরিবহন ভাড়া ও বাজারে জিনিসপত্রের দামে প্রভাব পড়ে।কর হ্রাসের ফলে ডিজেল নির্ভর পরিবহন, বাস, লঞ্চের ভাড়া কমা সহ নানা সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া সেচ কাজে কৃষকদের ব্যয় কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে।তবে পেট্রোল ও অকটেনের মতো অন্যান্য জ্বালানি তেলের আমদানি কর কমানো হয়নি। তারপরও এই জ্বালানি গুলোর দাম পাঁচ টাকা করে কমানো হয়েছে।এর আগে, গত ৫ আগস্ট সরকার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কেরোসিনের দামও ৪২.৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। এমন মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে গেছে। সাধারন মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহণ ভাড়া বেড়ে গিয়েছে। সেই সাথে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম।তাই সরকার ডিজেল আমদানিতে কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। কারণ দেশের সকল পরিবহণের প্রায় ৭৩ ভাগ চলে এই জ্বালানিতেই।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন চেয়ারম্যান বলেছিলেন জ্বালানির দাম কমানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাখে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পেলে পরবর্তীতে বিপিসি সিদ্ধান্ত নিবে। এরপর পর পরই জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা আসে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আরো কমলে আবারও দেশে দাম কমানো হবে। এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও স্থগিত রাখা হয়েছিলো। ফলে লোডশেডিং এর শিকার হয় মানুষ।আগে সব ধরনের জ্বালানি আমদানিতে ৩৪ শতাংশ কর আরোপ করতো সরকার। প্রতি বছর এই কর থেকে দশ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া যেতো।বর্তমানে মানুষের ভোগান্তি কমাতে এই খাতে কর কমানো হয়েছে। ডিজেলের সহ সব জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এটি জনজীবনে কতটুকু স্বস্তি নিয়ে আসবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।


