

এই বছরের শুরুর দিকে ইন্দোনেশিয়া তাদের রাজধানীকে জাকার্তা থেকে নতুন শহর নুসানতারায় সরিয়ে নেয়।রাজধানী সরিয়ে নেয়ার পিছনে যে কারন গুলো উল্লেখ করা হয়েছিলো সেগুলোর মধ্যে প্রধান কারন ছিলো জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব,ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, বন্যা ঝুঁকি, অর্থনৈতিক পুনর্বন্টন এবং দীর্ঘ মেয়াদে রাজধানী হিসেবে জাকার্তার কার্যকারীতা।জাকার্তায় বসবাস করতো প্রায় দুই কোটি মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ষাট ভাগ।ইন্দোনেশিয়া যখন রাজধানী সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয় ঠিক সেই সময় মিশর কায়রো থেকে পয়তাল্লিশ কিলোমিটার পূর্বের একটি শহরে নতুন রাজধানী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।কারন বর্তমান রাজধানী কায়রোর তীব্র যানযটে নাকাল হয়ে উঠেছে জনজীবন। আর যানজটের জন্য অনেকেই দায়ী করেন দেশটির রাজধানীতে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক ভবন গুলোকে।এবার ঢাকার দিকে তাকালেই দেখা যাবে জাকার্তা বা কায়রোর মতো এখানে ও উল্লেখিত সমস্যা গুলো বিদ্যমান।বর্তমানে ঢাকায় বসবাসকারীর সংখ্যা দুই কোটির ও বেশি। অথচ একটি আদর্শ রাজধানীর জনসংখ্যা হওয়া উচিত ষাট থেকে সত্তর লক্ষের মধ্যে।আদর্শ জনসংখ্যার প্রায় তিন গুন মানুষের বসবাসের প্রভাব বেশ স্পষ্ট। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্বের সবচাইতে দূষিত শহর গুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।যেকোন শহরের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত শহরের নদী বা খাল গুলো। কিন্তু ঢাকার নদী বা খাল গুলো এত বেশি দূষণের শিকার হয়েছে যে সেগুলো পুনরুদ্ধার করার আশা ও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।অন্যদিকে দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে নিচে নামছে ঢাকার পানির স্তর।আবার একটি রাজধানী শহরের যেই পরিমান টেকসই অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন ঢাকায় সেটা তিন চার গুন কম।অন্যদিকে যানযট আর ঢাকা যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। যাত্রীর তুলনায় পরিবহন সেবা অপ্রতুল হলে ও ঢাকার রাস্তায় স্বাভাবিকের চাইতে ত্রিশ থেকে চল্লিশ গুন বেশি যান বাহন চলাচল করে।২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি মাসে পঞ্চাশ লক্ষ কর্মঘন্টা নষ্ট হয় যানযটের কারনে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে জিডিপিতে।প্রতিবছর যানযটের কারনে ঢাকায় ক্ষতির পরিমান মোট জিডিপির প্রায় দুই দশমিক নয় শতাংশ।আর্থিক মূল্যে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। যা দিয়ে অনায়েসে তিনটি পদ্মা সেঁতু নির্মাণ করা সম্ভব।অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী ঢাকায় যানবাহন চলাচলের গড় গতি প্রায় সাত কিলোমিটার। একদশক আগে ও যা তিন গুন বেশি ছিলো।ধারণা করা হচ্ছে ২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকায় বসবাসকারী সংখ্যা হবে প্রায় সাড়ে তিন কোটি। যা সমস্যা গুলোকে আরো প্রকট করে তুলবে।সব মিলিয়ে রাজধানী শহর হিসেবে ঢাকার কার্যকারীতা দিন দিন কমে আসছে। ফলে এক সময় হয়ত রাজধানী পরিবর্তনের মত দাবী উঠতে ও পারে।কিন্তু রাজধানী পরিবর্তনের কাজটি বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক বিশেষজ্ঞই আবার মনে করছেন অর্থ, পর্যাপ্ত জমি এবং প্রযুক্তি সুবিধা থাকলে রাজধানী পরিবর্তন অসম্ভব কিছু নয়।তবে সমস্যার সমাধান হিসেবে অনেকেই ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ অথবা সম্প্রসারণের ব্যপারে ও মত দিয়েছেন।



