নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ হৃদয় রায় সজীব 


ছবি- মোজাম্মেল হক সোহেল


প্রথমবার বহিষ্কারের পর সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। 


আজ মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোজাম্মেল হকের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


মোজাম্মেল হক সোহেল উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় অর্চনা রানী দাস নামে এক বিধবা নারী তাঁর পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ জানান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তারপর মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় যুবদল।


ভুক্তভোগী অর্চনা রানী দাস মোজাম্মেল হক সোহেলের প্রতিবেশী।


এর আগে গত ৪ জুলাই বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে নানা তদবিরের পাশাপাশি বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।


এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক সোহেল বলেন, আমি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। আগেরবারও প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসিয়েছিল। আমি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। জমি লিখে দেওয়ার জন্য মারধরের কি দরকার। তাদের সবকিছুই তো আমার। আমার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজের অজান্তে হয়তো কিছু বলেছেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে।


তিনি বলেন, প্রতিবেশী অর্চনা রানীর ভাবীকে সাত বছর আগে এক লাখ টাকা হাওলাদ দিয়েছিলাম। সেই টাকা আর ফেরত দেয়নি। এই বিষয়টা নিয়ে তাদের সাথে কিছু তর্কবিতর্ক হয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোককন ওই নারীকে প্ররোচনা দিয়ে শিখিয়ে নিয়ে এমপি মহোদয়ের কাছে হাজির করে মারধরের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করিয়েছে। যার পুরোটাই মিথ্যা বানোয়াট।