মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটবল খেলে ফেরার পথে নিজের গাড়িতে ওঠার সময় হামলার শিকার হন তিনি। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান এই অভিনেতা। ঘটনার বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, যা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ঘটনাটি গত রোববার সন্ধ্যার। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল মাঠ থেকে নিজের বিএমডব্লিউ সেডান গাড়িতে উঠছিলেন টাইগার শ্রফ। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিনেতাকে বহনকারী গাড়ির সামনে ও পাশের জানালার কাছে দাঁড়িয়ে হামলাকারীরা গুলি চালাচ্ছে। এক হামলাকারী পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ার পর টাইগারের কাছাকাছি পৌঁছালে তার পিস্তলটি জ্যাম হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী গুলিটি ছুড়তে পারেনি সে।

প্রায় ১৮ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গুলিতে আহত হওয়ার পর গাড়িচালক কোনোমতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান। অন্যদিকে, হামলাকারীরা আগে থেকে প্রস্তুত রাখা একটি মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলার সময় অস্ত্রটি কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

ঘটনার আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএমডব্লিউ গাড়ির সামনের যাত্রী আসনে বসছেন টাইগার শ্রফ। এর কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে করে তিনজন এসে গাড়িটি লক্ষ্য করে অন্তত চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ১৪ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, চালক ফিরদাউস আহত হওয়ার পর টাইগার নিজেই যাত্রী আসন থেকে চালকের আসনে গিয়ে বসছেন। এ সময় আশপাশের লোকজনকে আতঙ্কিত অবস্থায় চিৎকার করতে শোনা যায়।

ঘটনাস্থলে গাড়ি ও রাস্তায় রক্তের দাগ দেখা যায়। এ সময় এক নারী টাইগারকে দ্রুত আহত চালককে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। পুলিশ জানিয়েছে, টাইগার শ্রফ অক্ষত রয়েছেন। তবে তাঁর গাড়িচালকসহ কাছাকাছি থাকা আরও একজন আহত হয়েছেন। আহত চালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকারের দাবি সামনে এসেছে। সালমান খানের সঙ্গে টাইগার শ্রফের সুসম্পর্কের কারণে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন। অডিওতে বলা হয়, টাইগার শ্রফ তাদের হিটলিস্টে ছিলেন। কারণ, তিনি তাদের কথা শুনছিলেন না এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তবে অডিওটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে ওই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে সালমান খানকেও একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।