মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দুই কথিত সদস্য। এ ঘটনার খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাইগারের বাড়িতে ছুটে যান তার সাবেক প্রেমিকা দিশা পাটানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা যায়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কে একটি ক্লাবে ফুটবল খেলে গাড়িতে করে ফিরছিলেন টাইগার শ্রফ। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিন বন্দুকধারী তার গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গুলিবর্ষণের ঘটনায় টাইগারের গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক আহত হন। গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অভিনেতা নিজেই গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাইগারের বাড়িতে যান দিশা পাটানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে দ্রুত বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ সময় আলোকচিত্রীদের ক্যামেরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন তিনি।

একসময় টাইগার ও দিশার প্রেমের গুঞ্জন বলিউডে বেশ আলোচিত ছিল। তবে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি কখনো প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি দুজনের কেউই।

টাইগারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

গুলিবর্ষণের ঘটনার পর টাইগার শ্রফের সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে।

ঘটনার পর টাইগারের একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। ছবিতে তার হাতে ব্যান্ডেজ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার জন্য ড্রেসিং দেখা যায়।

একনাথ শিন্ডে জানান, গুলিবর্ষণের সময় বারুদের প্রভাব ও ভাঙা কাচের টুকরোর আঘাতে টাইগারের বাম হাত আহত হয়েছে। তিনি বলেন, অভিনেতার সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। বারুদ ও কাচের টুকরোর কারণে টাইগারের বাম হাতে আঘাত লেগেছে। এ ঘটনায় টাইগার ও তার মা দুজনই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

সালমান খানের সঙ্গে কাজ করলেই পরিণতি ভোগ করতে হবে?

গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করে পোস্ট দেয় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দুই কথিত সদস্য অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু।

পোস্টে তাদের দাবি, টাইগারকে আগে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে অভিনেতা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করে তারা।

পোস্টে বলা হয়, টাইগারকে ফোন করে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা বুঝতে না চাওয়ায় তাকে গুলি করে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতের কেউ তাদের কথা না শুনলে কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করলে তাকে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

পোস্টটির সঙ্গে একটি ভয়েস বার্তাও যুক্ত করা হয়েছিল। তবে হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া পোস্ট ও এর সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।