মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে অক্ষত রয়েছেন এই অভিনেতা। গত রোববার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তাঁর গাড়িচালক হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হামলার পরপরই একটি অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করা এক ব্যক্তি হামলার দায় স্বীকার করেন এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা চলচ্চিত্রশিল্পের কলাকুশলীদের হুমকি দেন।

ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেন, গ্যাংয়ের নির্দেশ অমান্য করে সালমান খানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। বর্তমানে গুজরাটের কারাগারে বন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এর আগেও একাধিকবার সালমান খানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

অডিও বার্তায় ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, চলচ্চিত্রশিল্পের যাঁরা গ্যাংয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে কাজ করবেন কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁদের হত্যা করা হবে। এটিকে প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা বলেও উল্লেখ করা হয়। বার্তায় সালমান খানকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় এবং দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে হুমকি দেওয়া হয়।

বার্তায় আরও দাবি করা হয়, সালমান খানকে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই সতর্কতা আমলে না নেওয়ায় তাঁকে হামলার মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তবে ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তার সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন ব্যক্তি অংশ নেন। একটি ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালকের হাতে গুলি লাগে। হামলাকারীদের পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পেছনের কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

১৯৯৮ সালের কালো হরিণ শিকারের ঘটনায় বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের প্রসঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই সালমান খানকে ঘিরে বিভিন্ন হুমকির ঘটনায় উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির তালিকায় সালমান খানের নাম থাকার বিষয়টি সামনে এনেছিল বলে জানা যায়। সালমান খান ক্ষমা না চাইলে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ছাড় দেওয়া হবে না—এমন হুমকির কথাও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে।

এদিকে, গুলিবর্ষণের ঘটনার বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস মুম্বাই পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।