

কোনো দৃশ্যের সংযোজন বা পরিমার্জন ছাড়াই, সেন্সর বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতি পেলো মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর 'শনিবার বিকেল'। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে বেশ কয়েকবছর ধরে আটকে ছিলো সিনেমাটি। ২০১৯ সালে ১৫ সদস্যের সেন্সর বোর্ড, ছবিটি প্রদর্শনের উপযোগী নয় বলে মতামত প্রকাশ করেছিলেন।এদিকে, একই ঘটনা নিয়ে বলিউডে নির্মিত হয়েছে “ফারাজ” নামের একটি সিনেমা। হংসলমেহতার পরিচালিত সিনেমাটি আগামী মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।এর ট্রেইলার প্রকাশ্যে আসার পর, পুনরায় আলোচনা শুরু হয় "শনিবার বিকেল" নিয়ে। নির্মাতা ফারুকী সহ, অনেকেই সরব হয়ে উঠেন সিনেমার মুক্তি আটকে থাকা নিয়ে।সমালোচনার মুখে আবারও সাত সদস্যের আপিল বোর্ডের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিনেমার নির্মাতা-প্রযোজকের বক্তব্য শোনেন আপিল কমিটির সদস্যরা। সাত সদস্যের সেন্সর আপিল কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি, ও সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন, সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান।এ কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন সংসদ সদস্য ও অভিনয়শিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা, সাবেক অতিরিক্ত সচিব নূরুল করিম, অভিনেত্রী সুচরিতা ও সাংবাদিক শ্যামল দত্ত।তারা সিনেমাটি দেখে নিজেদের মধ্যে কথা বলে অবশেষে একটা সিদ্ধান্তে আসেন। গত শনিবারে আপিল কমিটির সদস্য শ্যামল দত্ত এ সিনেমার মুক্তি প্রসঙ্গে জানান, ছবিটি তারা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন আর এটি প্রদর্শনে কোনো ধরনের বাধা নেই। কমিটির সকল সদস্যই ছবিটি দেখেছে। যেহেতু “শনিবার বিকেল” হোলি আর্টিজানের ঘটনার হুবহু রূপায়ণ নয়, তাই এর মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। কোনো দৃশ্য সংযোজন বা পরিমার্জন করারও প্রয়োজন হয়নি। কারণ ছবিটির সঙ্গে, হোলি আর্টিজানে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। নির্মাতা ফারুকি জানান, শিঘ্রই ছবিটি মুক্তির ব্যবস্থা করবেন তিনি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন "ফারাজ" ও "শনিবার বিকেল" একই দিনে মুক্তি দেয়ার।গুলশানের হলি আর্টিজানে ২০১৬ সালে ঝড় তোলা হামলার প্রেক্ষাপটে, ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি বানিয়েছেন জনপ্রিয় নির্মাতা ফারুকী। এতে জাহিদ হাসান, পরমব্রত, তিশা, ইরেশ যাকেরের সঙ্গে ফিলিস্তিনি অভিনেতা ইয়াদ হুরানিও অভিনয় করেছেন।২০১৯ সালে সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা দুবার দেখার পর, এটি আটকে দেন বোর্ডে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির আপত্তিতে। তখন বলা হয়েছিল, ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়টি নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।এ নিয়ে সিনেমাপ্রেমীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পত্র-পত্রিকাতেও নানা ধরণের লেখালেখি হয়েছে গত কয়েকবছর ধরে।মোস্তফা সরয়ার faruki আপিল বোর্ড সদস্যদের উদ্দেশ্যে, গত ১৮ই জানুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে বলেন,‘কমিটির সদস্যদের মধ্যে অনেক খ্যাতিমান মানুষ আছেন। তিনি তাঁদের বিচক্ষণতা দেখার অপেক্ষায় আছেন। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্ব এখন আপিল কমিটির কাঁধে এসে পড়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে এমন দেশ হিসেবে পরিচিত করা কোন ভাবেই কাম্য না, যে দেশে শিল্পের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়।নিজ দেশের একটা ঘটনার ছায়া অবলম্বনে তিনি ছবি নির্মাণ করেছেন। এটা কেবল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকারদের আত্মমর্যাদার প্রশ্ন নয়, সমগ্র বাংলাদেশেরই আত্মমর্যাদা জড়িয়ে আছে। সাক্ষাৎকারে তিনি আপিল কমিটির কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাঁরা যেন ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে।অবশেষে নির্মাতার সেই আশার প্রতিফলন ঘটেছে। আপিল বোর্ডের সদস্যরা ছবিটি প্রদর্শনের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন।ইতোমধ্যে দেশের বাইরে সাড়া ফেলেছে ফারুকীর এই সিনেমা। প্যারিসের ভেসুল উৎসবে অংশ নিয়ে, নেটপ্যাক জুরি প্রাইজ এবং হাইস্কুল জুরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে শনিবার বিকেল। এবার দেশীয় দর্শকমহলের আগ্রহের পালা শেষ হতে চলেছে। আশা করা যাচ্ছে বরাবরের মতোই আবারও চমক নিয়ে আসছেন, নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।



