জমকালো গ্র্যান্ড সিনেম্যাটিক গালায় ‘ফেস অব টুমোরো ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন রাইসা-লাবন

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দেশের নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী খোঁজার উদ্যোগ ‘ফেস অব টুমোরো ২০২৬’-এর প্রথম আসর। গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘গ্র্যান্ড সিনেম্যাটিক গালা’য় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেরা ২০ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিচারকদের চূড়ান্ত মূল্যায়নে রাইসা ও লাবন চ্যাম্পিয়ন কাপল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রাইসা ও লাবন পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। প্রথম রানার্সআপ হয়েছেন সিফনা ও সৌমিক। তাঁরা পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছেন মুনমুন ও তমাল। তাঁরা পেয়েছেন ১ লাখ টাকা।
দেশের নতুন প্রজন্মের শিল্পী তৈরি এবং বাংলাদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও মানুষের গল্পকে সিনেম্যাটিক স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রির উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘ফেস অব টুমোরো ২০২৬’। পুরো উদ্যোগটি বৃহত্তর ‘চলো ঘুরে আসি’, বাংলাদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়কেন্দ্রিক একটি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।
সারাদেশ থেকে ৫ হাজার ৪৭১টিরও বেশি আবেদনের মধ্য থেকে একাধিক ধাপের অডিশন, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ ও সিনেম্যাটিক বুটক্যাম্পের মাধ্যমে সেরা ২০ প্রতিযোগী নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতাটিকে একটি প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্বাচিত শিল্পীদের বাস্তব চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যে তাঁদের ‘চলো ঘুরে আসি’ সিনেম্যাটিক ট্রাভেল ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম উদ্যোগে যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থান ও গল্প নিয়ে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে।
গ্র্যান্ড গালা অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় সঞ্চালক আইশা খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সেন্সর বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, অভিনেতা মিশা সওদাগর, নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েতসহ দেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রকল্পের প্রধান তিন বিচারক নির্মাতা অনিমেষ আইচ, অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নাজনীন হাসান চুমকির পাশাপাশি দেশের ১০ জন স্বনামধন্য পরিচালক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ‘চলো ঘুরে আসি’-এর আওতায় নির্মিতব্য ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাতা, লোকেশন ও অভিনয়শিল্পী নির্বাচনের পরিকল্পনাও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন চিত্রনায়ক মিশা সওদাগর। তিনি ‘চলো ঘুরে আসি’-এর ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একটি চলচ্চিত্রে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই অভিনয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েত নতুনদের এই পথচলাকে দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের জন্য ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গ্র্যান্ড গালায় ছিল বর্ণিল সাংস্কৃতিক ও সিনেম্যাটিক পরিবেশনা। খ্যাতিমান কোরিওগ্রাফার মোফাসসাল আলিফ ও ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার বুলবুল টুম্পার পরিবেশনা, বিশেষ মঞ্চনাট্য এবং বিটমোস্ফিয়ারের বিটবক্সিং পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পাশাপাশি সেরা ২০ প্রতিযোগীর বিভিন্ন পরিবেশনা ও বিশেষ উপস্থাপনাও দর্শকদের নজর কাড়ে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রি জানায়, ‘ফেস অব টুমোরো’-এর মূল লক্ষ্য নতুন শিল্পী খুঁজে বের করার পাশাপাশি তাঁদের প্রশিক্ষণ, বাস্তব প্রযোজনায় কাজের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পী উন্নয়নের মাধ্যমে পেশাদার শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলা।
একই সঙ্গে ‘চলো ঘুরে আসি’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কম পরিচিত গন্তব্য, মানুষ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, প্রকৃতি ও জীবনযাপনের গল্প চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের মতে, ‘ফেস অব টুমোরো’ নতুন শিল্পীদের জন্য একটি বৃহত্তর পেশাগত যাত্রার সূচনা। ‘চলো ঘুরে আসি’-এর ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত শিল্পীদের সামনে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, টিভিসি, ওভিসি, ভ্রমণভিত্তিক কনটেন্টসহ বিভিন্ন পেশাগত কাজের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘আমরা শুধু শিল্পী খুঁজি না, তাঁদের গড়ে তুলি’ এই দর্শনকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রি।





