
বিয়ের জন্য পাত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চিত্তশালীদের চেয়ে যেন বিত্তশালীদেরই বেশি পছন্দ বলি অভিনেত্রীদের।শ্রীদেবী থেকে শুরু করে আনুষ্কা শর্মা, অনেক বলিউড অভিনেত্রীই স্বামী হিসেবে বেছে নিয়েছেন ধনকুবেরদের।যাদের কেউ হাজার কোটি টাকার মালিক, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ জনপ্রিয় ক্রিকেটার আবার কেউ সিনেমার প্রযোজক।২০০৯ সালে কোটিপতি ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন বলিউড সুন্দরী শিল্পা শেঠি।রাজ কুন্দ্রার মোট সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে চমকে উঠবেন অনেকেই। মোট ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের মালিক তিনি।বিয়ের পর নিজের মুম্বইয়ের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি, বাড়ি-ফ্ল্যাট স্ত্রী শিল্পার নামে লিখে দেন রাজ কুন্দ্রা।শিল্পার সঙ্গে প্রথম দেখার সময়ে বিবাহিত ছিলেন রাজ। সে কথা জানতেন শিল্পাও। নিজের প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েই তাকে বিয়ে করেন রাজ।শিল্পা অবশ্য শুরুতেই রাজকে জানিয়েছিলেন তাদের সম্পর্ক টিকবে না। তারপরও কেন বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন তিনি?- তা নিয়ে আলোচনা সমালোচনাও কম হয় নি।অনেকের ধারণা, রাজের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির লোভ সামলাতে পারেন নি শিল্পা।২০১২ সালে প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা বিদ্যা বালান।সিদ্ধার্থ রায় কাপুর ইউটিভি মোশন পিকচার্সের প্রধান প্রযোজক। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৯০ কোটি টাকা ..বিদ্যার আগে আরো দুইবার বিয়ে করেন সিদ্ধার্থ রায় কাপুর। তারপরও তার তৃতীয় স্ত্রী হতে রাজি হওয়ায় বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিলো বিদ্যাকে।অবশ্য সমালোচকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বর্তমানে স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি।বলিউডের অন্যতম হিট জুটি আনুশকা-বিরাট কোহলি। নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাদের দু'জনেরই সাফল্য আকাশচুম্বী।আনুষকা যেমন নিজের অভিনয় দিয়ে বলিউড মাতান, তেমনি ক্রিকেট মাঠে ব্যাট হাতে,রাজা কোহলি।বিশ্বে সবথেকে ধনী ক্রিকেটারদের তালিকায় নাম রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের এ প্রাক্তন অধিনায়কের।ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এ গ্রেডে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করেন। এছাড়া বিজ্ঞাপন এবং ইনভেস্টমেন্ট থেকেও মোটা অংকের টাকা উপার্জন করেন তিনি।৯০-এর বলিউড হার্টথ্রব জুহি চাওলা। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে জয় মেহেতা নামে স্বনামধন্য এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। জয়ের তুলনায় জুহি তখন নিতান্তই বালিকা।অন্যদিকে জয় বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক। তার ব্যবসার পরিধি শুধু দেশেই নয়, বরং আফ্রিকা, কানাডা ও মার্কিন মুল্লুকেও বিস্তৃত।যেকারণে প্রথম প্রথম জয়কে ‘বুড়ো লোক’ আর জুহিকে ‘অর্থলোভী’ বলে নানা মন্তব্য করে সমালোচকরা।কিন্তু সবার মুখ বন্ধ করে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে একসাথে রয়েছেন তারা। প্রমাণ করেছেন যে, কেবল টাকার লোভেই জয়কে বিয়ে করেন নি জুহি।২০১৮ সালের ৮ মে বিয়ে করেন সোনম কাপুর এবং আনন্দ আহুজা। আনন্দ আহুজা ভারতের নবীন প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের মধ্যে খুবই প্রসিদ্ধ।শাহি এক্সপোর্টস নামে এক সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনন্দ। দিল্লিতে রয়েছে তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি।এ ছাড়া ভারতে নাম করা সব ব্র্যান্ডের স্নিকার্সের আমদানির ব্যবসাও রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে তার সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি।বর্তমানে এক পুত্র নিয়ে ধনকুবের স্বামীর সঙ্গে বেশ বিলাসী জীবনই কাটাচ্ছেন এ বলিউড সুন্দরী।বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থা যশ রাজ ফিল্মসের চেয়ারম্যান ও অন্যতম শেয়ারহোল্ডার আদিত্য চোপড়া। বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক তিনি।২০১৪ সালে আদিত্যর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রানি মুখার্জি। যেটি রানীর প্রথম বিয়ে হলেও আদিত্যের ছিলো দ্বিতীয় বিয়ে।যে কারণে 'টাকার লোভে বুড়োকে বিয়ে করেছেন' এমন সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিলো রানিকে।অবশ্য বিয়ের পর থেকে নিজের ব্যক্তিগত জীবন আড়ালেই রেখেছেন রানি। এমনকি প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন মেয়ে আদিরাকেও।বলিউডের আরেকজন নামী প্রযোজক-পরিচালক বনি কাপুরকে বিয়ে করেছিলেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীদেবী।প্রয়াত এ অভিনেত্রী ছিলেন বনির দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথমদিকে শ্রীদেবী ছিলেন বনি কাপুরের প্রথম স্ত্রী মোনার ভাল বন্ধু। কিন্তু টাকার জন্য নিজের বন্ধুর সতীন হতেও দ্বিধাবোধ করেন নি তিনি।বলি পাড়ার আলোচিত সুন্দরী অভিনেত্রী সানা খান। ২০১৯ সালে হঠাৎ রুপালি পর্দার ঝলমলে দুনিয়ার দিক থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নেন তিনি।অভিনয় জগতকে বিদায় জানানোর দেড় মাস পরই গুজরাটের এক মুফতি আলেমকে বিয়ে করেন তিনি।মুফতি আনাস সাইয়্যিদ নামক সে আলেমের রয়েছে হীরের ব্যবসাও। সমালোচনাকারীরা অনেকেই বলেন, সানা চালাকি করে আনাসকে বিয়ে করেছেন, যাতে তার টাকায় বিলাসবহুল জীবন কাটাতে পারেন৷মূলত শুধু গ্ল্যামার আর অভিনয়ই নয়, টাকা-পয়সাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলিউড অভিনেত্রীদের কাছে।সেক্ষেত্রে জীবনসঙ্গী হিসেবে ধনকুবেররাই তাদের কাছে প্রাধান্য পায়। কেননা, ধনকুবেরদের বেশিরভাগরেই জীবনধারা নিরাপদ হয়। এছাড়া বিলাসী জীবনের নিশ্চয়তা তো রয়েছেই!


