স্বামীর সাথে সতীনের ডিভোর্স হওয়ায়, খুশিতে আত্মহারা হলেন মাহিয়া মাহি।
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


সতীনের ডিভোর্সে আনন্দে আত্নহারা মাহিয়া মাহি! আলহামদুলিল্লাহ লিখে করেছেন ফেসবুকে পোস্ট! নতুন করে আলোচনায় ঢাকাই সিনেমার আলোচিত এই নায়িকা! সম্প্রতি স্বামীর সাথে সতীনের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই, মাহিয়া মাহির এতো খুশীর পেছনের প্রধান কারণ! প্রথম নয় ২য় স্ত্রী হিসেবেই, রাকিবের সাথে সংসার জীবন শুরু করেন মাহি! যদিওবা এই বিয়ে মাহিয়ারও ২য় বিয়ে! তবে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ব্যতিরকে ২য় স্ত্রী ঘরে আনা যায় না এটা সবারই জানা!তাই মাহিকে বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর সাথে রাকিবের ডিভোর্স হয়েছে কিনা তা নিয়ে ছিলো বেশ ধোঁয়াশা! জোরালো গুঞ্জন উঠেছিলো যে, আদালতে স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের মামলা চলমান থাকতেই নাকি মাহিকে বিয়ে করেছিলেন রাকিব। এবার দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর রাকিব নিজেই এতদিনের সব জল্পনার অবসান ঘটালেন।সম্প্রতি নায়িকার স্বামী রাকিব সরকার, তাঁর ফেসবুক আইডিতে ,মাহির একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমার একমাত্র বউয়ের আলোকচিত্রী আমি।’ লাইনটির শেষে ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছিন তিনি। সেই স্ট্যাটাসের নিচে এমডি জুনায়েদ নামের একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘দুইমাত্র হবে কাকা।’ এর পাল্টা জবাবে রাকিব লিখেছেন, ‘আমার বউ একটাই। ডিভোর্সের পর বউ থাকে না।’ আর মাত্র এতটুকুতেই, বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছাসে ভাসছেন নায়িকা মাহি! রাকিবের এমন মন্তব্যের কিছু সময়ের মধ্যেই, সেই স্ট্যাটাস এবং মন্তব্যগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে, মাহি তার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করছেন। সেই সাথে রাকিবকে উদ্দেশ্য করে দিয়েছেন, একটা আবেগময় স্ট্যাটাস। প্রথমেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে লিখেন ‘আলহামদুলিল্লাহ'। এরপরই এই তারিখটা, তার প্রিয় ডায়েরিতে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার কথা জানান মাহি।রাকিবের এই একটা লাইন কথার জন্যই নাকি, তিনি যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা করে ছিলেন। তাই স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ''প্রিয়তম, তোমার এই একমাত্র বউয়ের একমাত্র ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী, মৃত্যু পর্যন্ত তুমিই থাকবে ইনশাআল্লাহ। অনেক ভালোবাসি তোমাকে।’' তার এই স্ট্যাটাস মূহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহিয়া মাহি বলেন, ‘রাকিবের এই স্ট্যাটাস এবং মন্তব্য দেখার পর, তিনি এতটাই খুশি হয়েছেন, যা জীবনে আগে কখনো হননি। মাহি আরও জানান, তার প্রতি রাকিবের ভালোবাসায় কোনো খাদ নাই। তাকে সব সময়ই ছায়া দিয়ে আগলে রাখেন তিনি। কিন্তু তাদের দুজনের বিয়ের পরও, আগের বউয়ের সাথে বিচ্ছেদের ব্যাপারটা রাকিব কখনোই খোলামেলা ভাবে প্রকাশ করেনি। এ নিয়ে মাহির মনে ছিলো অনেক অভিমান এবং কষ্ট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাকিব নিজে থেকেই এতদিনের জমিয়ে রাখা কষ্ট দূর করে দিলেন। ২০১৯ সালেই নাকি, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় রাকিব সরকারের। কিন্তু তিনি এত দিন মিডিয়ার সামনে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। এ নিয়ে মাহি বলেন, ‘বিয়ের আগেই তিনি জানতেন, আগের বউয়ের সঙ্গে রাকিবের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তারা বিয়ে করেন। বিয়ের আগে থেকেই তাদের মধ্যে প্রায় আট, নয় বছরের জানাশোনা ছিলো। সুন্দর একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকেই তাদের বিয়েটা হয়। আর এত দিন পরে যখন রাকিব, মাহিকে একমাত্র বউ বলে সম্বোধন করেছে, সেটাই নাকি ছিলো তার একমাত্র চাওয়া এবং এখন অবধি বড় প্রাপ্তি। উল্লেখ্য, সিলেটের ব্যবসায়ী অপুর সাথে প্রথম সংসারে বিচ্ছেদের মাত্র চার মাসের মাথায় গাজীপুরের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা রাকিব সরকারের সঙ্গে বিয়ের ঘোষণা দেন নায়িকা মাহি। সে সময় বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়। কারণ রাকিব সরকার বিবাহিত ছিলেন এবং তার সন্তানও ছিল। এদিকে রাকিবের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে অপুর সাথে বিচ্ছেদ করার অভিযোগও উঠেছিল মাহির বিরুদ্ধে। টানা দেড় বছর সংসার করে গেলেও, এসব বিষয় নিয়ে কোনো কথাই সামনে আনেননি রাকিব-মাহি জুটির কেউ। বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাহি, এখন নতুন অতিথির আগমণের অপেক্ষায় ক্ষীর হয়ে আছেন!



