.jpg&w=3840&q=75)

বুড়ো রোনালদোর ভেলকি এখনও বাকি, ফুরিয়ে যাননি এখনো তিনি। গতকাল লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল। রোনালদোর দুই গোলের দিনে ইউরোপের এই দেশটিকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগাল।ম্যাচের প্রথম থেকেই পর্তুগালের আধিপত্য। মুহুর্মুহু আক্রমনে ফল পেতেও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি পর্তুগিজদের।৯ মিনিটেই গোল পেয়ে যায় তারা। ডি বক্সের ভিতরেই নুনো মেন্দেসের বাড়ানো বলে, দারুন এক শটে গোল করেন সিআরসেভেন। প্রথমেই গোল পেয়ে দারুন আত্নবিস্বাসি পর্তুগাল। সেই আত্মবিশ্বাসে লুক্সেমবার্গ কোন কিছূ বুঝে উঠার আগেই একের পর এক গোল করে যায় রোনালদোরা। ম্যাচের ৩১ মিনিটে আবারো বুড়ো রোনালদোর জাদুর ভেলকি। ব্রুনো ফার্নান্দেজের এসিস্টে অসাধারন এক গোল করেন ক্রিস্টিয়ানো। পর্তুগালের জার্সিতে এটি ছিল তার ১২২ তম গোল। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও তার দখলে। দিন কয়েক আগে লিখটেনস্টেইনের বিপক্ষে মাঠে নেমে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেন পর্তুগিজ এই সেনশেসন। কোন দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিরল কীর্তি গড়ে ফেললেন তিনি। ১৯৮ ম্যাচ খেলে গড়ে ফেললেন দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড। কিন্তু নামটা যখন রোনালদো, তখন সবকিছু ছাড়িয়ে, সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই যার লক্ষ্য, রেকর্ডময়ী এই দিনটাকে তিনি রাংগিয়ে দিলেন আরো দারুন ভাবে। জোড়া গোল করে পর্তুগালের হয়ে ১২০তম গোলের মাইলফলকে পৌছে গিয়েছিলেন তিনি। ৩৮ বছর বয়সে রোনালদোর একটাই ইচ্ছে, নিজের মাইলফলকগুলোকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া,যাতে তার রেকর্ডে আর কেউ ভাগ না বসাতে পারে। এদিকে তার চির প্রতিন্ধন্ধি মেসিও তার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। ৮০০ গোল করে জানান দিচ্ছেন, তিনি ভেংগে দিতে পারে রোনালদোর সব রেকর্ড। বিশ্বকাপের সময়টাতেই অনেকেই শেষ দেখে ফেলছিলেন তার, ৩৮ বছরের রোনালদো ফুরিয়ে গেছেন, বয়সের ছাপ পড়ে গেছে, তার খেলার ধরনেও দেখা গেছে বয়সের ছাপ, সহজ গোল মিস করেন, আরো কত সমালোচনা। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে ক্রিস্টিয়ানো এখন স্বমহিমায়, পর্তুগালের হয়ে প্রতি ম্যাচেই দেখা যাচ্ছে তার অসাধারন পারফর্মেন্স ঝলক। করছেন জোড়ায় জোড়ায় গোল।অথচ গেল বিশ্বকাপে, তাকে নামানো হয়নি গুরুত্বপুর্ন ম্যাচ গুলোতে, এ নিয়ে সেসময় পর্তুগালের কোচ সান্তোসের সাথে রোনালদোর ঝামেলা হওয়ার গুঞ্জন ছিল। ব্যক্তিগত কোন কারনে তাকে একাদশে থেকে বঞ্ছিত করা হয়েছে কিনা এমনও অভিযোগ উঠেছিল কোচ সান্তোসের বিপক্ষে । তবে কোচ সেসব অস্বিকার করেন। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে তাকে নামানো হয়নি শুরুর একাদশে। এনিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। তার মতো সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে প্রথম থেকেই নামানো হলে, মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের ফলাফলটাই অন্যরকম হতে পারতো। বেঞ্চে থাকা রোনালদোকে কোনভাবে মেনে নেয়নি তার সমর্থকেরা। নিজের শেষ বিশ্বকাপটা খেলে ফেললেন এই পর্তুগিজ সেনশেসন। শুণ্য হাতে বিদায় নিতে হলো বিংশ শতাব্দীর অন্যতম এই গ্রেটেস্টকে। বিশ্বকাপের পরপরই পর্তুগালের নতুন কোচ হন মার্টিনেজ। দায়িত্ব পেয়ে, রোনালদোকে ডেকে নিয়ে আসলেন দলে, তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথাও হয়েছে কোচের। রোনালদোর স্বপ্ন পর্তুগালের হয়ে দারুন কিছু করেই বিদায় নিবেন এই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ লিজেণ্ড। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই আসন্ন ইউরো বাছাই পর্বে তাকে দলে ডাকা হয় অবশেষে। দেশের জার্সিতে ফিরেছেন তিনি বীরের মতো করেই।



