
ঘুম সকলের জন্যে প্রয়োজনীয়। আমরা কেউ বেশি ঘুমাই কেউ বা কম। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৭-৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে পরীক্ষা, প্রেসেন্টেশন কিংবা বোর্ড মিটিংয়ের আগে সচারচর কম ঘুমানো হয়।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া চালানোর জন্যেও রাত জাগা নিত্য দিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের। আবার অনেকে ব্যস্ততার মাঝে ঘুমকে হারিয়ে ফেলে। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় ৭ ঘন্টার কম ঘুমালে কি হয়?
ঘুম যদি সাত থেকে আট ঘন্টা না হয় তাহলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নানা ধরনের বদ প্রভাব পড়ে। সর্বপ্রথম যে প্রভাব পড়ে তা হল, কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
গবেষকদের মতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের কথা বলার, যুক্তি দেখানো এবং চিন্তা করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। বিশেষ করে যদি কেউ প্রতিনিয়ত ৭ ঘন্টার কম ঘুমায় তাহলে এই ক্ষমতাগুলো হ্রাস পেতে থাকে। যদি আপনি আপনার কাজে সর্বোচ্চ শ্রম দিতে চান তাহলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের বিকল্প নেই। কারণ কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার দক্ষতা। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে।
একদিন ঘুমের স্বল্পতার কারনে দেখা যায়, দৈহিক ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এমনকি গবেষকদের মতে স্বল্প ঘুমের কারনে মানুষের ধৈর্য শক্তিও কমে যায়। এছাড়া বর্তমানে একটি মূল সমস্যা হল দুশ্চিন্তা। পুরুষ, নারী ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ এ সমস্যার শিকার। এই দুশ্চিন্তার মূল উপাদান হচ্ছে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।
স্বল্প ঘুমের কারনে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকি থাকে, ২০০৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কম ঘুমানো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০১০ সালে গঠিত ১৬টি গবেষণা অনুযায়ী, রাতে কম ঘুমানোর কারনে প্রাথমিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে , যারা প্রতি রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুমায় তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।



