আন্তর্জাতিক
এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যেভাবে হয় বর্ষবরণ
সামিউল হক খান শাওনঃ
বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। এই দিনটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি। মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি ঈদের পর পহেলা বৈশাখ দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ উদযাপন করে থাকেন। কেবল বাংলাদেশই নয়, দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছেও দিনটি বিশেষ উদযাপনের।
শুধুমাত্র বাংলা ভাষাভাষি মানুষেরাই নন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ১৪ই এপ্রিল পহেলা নববর্ষের উৎসব পালন করা হয়। এর মধ্যে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনাম এদের অন্যতম।
ভারতঃ ব্রিটিশ শাসনের সময় ভারতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রচলন শুরু হয়। কিন্তু তারও বহু বছর আগে থেকে পঞ্জিকা দেখে দিনক্ষণ উদযাপন করা হত। এখনো ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বৈশাখ মাসের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপন করা হয়। হিন্দু সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, মনিপুর, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন হয় বৈশাখের প্রথম দিন। যেমন: পাঞ্জাবে-বৈশাখী, কেরালায়-ভিষু, আসামে-বিহু, তামিল নাড়ুতে-পুথান্দু, উড়িষ্যায়-পান সংক্রান্তি, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায়-পহেলা বৈশাখ।
মিয়ানমারঃ মিয়ানমারের নববর্ষকে স্থানীয়ভাবে থিংইয়ান নামে ডাকা হয়। বার্মিজ ভাষায় এর অর্থ 'পরিবর্তন' বা 'এক জায়গা থেকে অন্যত্র স্থানান্তর'। নতুন বছরের প্রথম দিনটি সাধারণত মধ্য-এপ্রিলে হয়ে থাকে, তবে ঠিক কোন নির্দিষ্ট দিনে তা পালন হবে তা হিসাব করা হয় মিয়ানমারের সৌর এবং চন্দ্র পঞ্জিকার গণনা মিলিয়ে। থিংইয়ানের দিনে বার্মা বা মিয়ানমার জুড়ে পানি উৎসব হয়, নববর্ষের চারদিন আগে থেকে এ উৎসব শুরু হয়, চলে নববর্ষের দিন পর্যন্ত। দেশটির মানুষের বিশ্বাস, পানি উৎসবের পানির ছোঁয়া লাগতে হবে সব মানুষের গায়ে, তাতে করে সব পাপ দূর হয়ে যাবে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো পানি উৎসবের একটি। দেশটির মানুষ ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে পালন করে আসছে এ উৎসব।
নেপালঃ ১৪ এপ্রিল নেপালের আনুষ্ঠানিক বর্ষ পঞ্জিকা বিক্রম সাম্বাতের প্রথম দিন। যা মূলত প্রাচীন হিন্দু রীতি অনুযায়ী তৈরি করা হয়, এ দিনে নেপালে নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকে। এ দিনে বৈশাখ উৎসব নামে সার্বজনীন এক উৎসব হয় দেশজুড়ে। দিনটিতে উৎসবের আমেজে ভালো খাওয়া-দাওয়া, শুভেচ্ছা বিনিময় আর নানা খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।
থাইল্যান্ডঃ থাইল্যান্ডের নতুন বছরের শুরুর দিনটি সংক্রান উৎসব নামে পরিচিত। সংক্রান শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ সংক্রান্তি থেকে এসেছে। থাইল্যান্ডে মূলত এটি এপ্রিলের ১৩ তারিখে শুরু হয়, কিন্তু এ উৎসব চলে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত। ২০১৮ সালে থাই সরকার উৎসবের দৈর্ঘ্য ১২ই এপ্রিল থেকে ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষণা করেছে। থাই ও মালয়েশিয়ান সিয়ামিজ গোত্রের মানুষেরাই মূলত ধর্মীয় রীতি মেনে এ উৎসব পালন করেন, কিন্তু উদযাপন হয় দেশজুড়ে। এদিন আয়োজন হয়ে থাকে সবচেয়ে বড় পানি উৎসব। যাতে অংশ নেন নানান শ্রেণি পেশার মানুষ।
শ্রীলঙ্কাঃ শ্রীলংকায় এটিকে সিনহালা নববর্ষকে স্থানীয়ভাবে আলুথ আবুরুদ্ধাও বলা হয়। যার অর্থ হলো- সকল মানুষ উদযাপনে সামিল হন। উৎসব চলে এক সপ্তাহ ধরে। সিনহালা নববর্ষের সাথে তামিল নববর্ষের উদযাপনে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। উৎসবকে ঘিরে পিঠা, মিষ্টি আর পায়েস বানানো হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন খেলাধুলা আর প্রতিযোগিতার আয়োজন বেশি দেখা যায়।
কম্বোডিয়াঃ ১৪ই এপ্রিলকে কম্বোডিয়া নাগরিকেরা ‘খেমার নববর্ষ’ উৎসব বলে পালন করা হয়। দেশটিতে দিনটিকে বলা হয় ‘চউল সানাম থামাই’, এর মানে নতুন বছরে প্রবেশ করা। খেমার নববর্ষে কম্বোডিয়াতে নানা ধরণের লোকজ খেলা এবং প্রতিযোগিতা হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে রশি বা দড়ি টানাটানি খেলা হয়, অধিকাংশ এলাকায় নারী বনাম পুরুষের মধ্যে হয় এই খেলা। তাতে অংশ নেন বাচ্চা-বুড়ো সবাই।
ভিয়েতনামঃ লাওসেও সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখের প্রথম দিনটি পালন করা হয়। স্থানীয়ভাবে এর নাম সংক্রান বা পি-মেই, যার মানে নতুন সংক্রান্তি বা নতুন বছর। দেশটিতে তিন দিন ধরে চলে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহর ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি স্থাপনা পুড়ে গেছে এবং আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের জবাব দেয়নি ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন
ভারতীয় ভিসার অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম জুমবাংলা। হাইকমিশনের ভিসা হেল্প ডেস্ক ও সাধারণ ইমেইল, উভয় ঠিকানায় পাঠানো ওই চিঠির এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে ভারতীয় হাইকমিশনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
ভারতীয় ভিসার অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম জুমবাংলা। হাইকমিশনের ভিসা হেল্পডেস্ক ও সাধারণ ইমেইল—উভয় ঠিকানায় পাঠানো ওই চিঠির এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার তীব্র প্রতিবাদ ভারতীয় মুসলিমদের
‘বন্দে মাতরম’কে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং এর অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড।

.jpg)


