গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বাড়ি কিনছেন ইসরাইলি বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থি রাজনীতি ও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির জন্য পরিচিত এই এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগের কারণে বদলে যাচ্ছে আবাসনব্যবস্থা ও এলাকার চিরচেনা পরিবেশ। স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসন ব্যবসা বাড়ায় বাসাভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, উচ্ছেদ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার নিজস্ব পরিচয়।
৬৯ বছর বয়সী স্থপতি তোনিয়া কাতেরিনি ১৯৮৬ সাল থেকে এক্সারখিয়ায় বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাস ধরে তিনি ও তাঁর কয়েকজন প্রতিবেশী সরকারি নথি ঘেঁটে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার তথ্য সংগ্রহ করছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা একটি ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করেছেন, যেখানে বিদেশিদের কেনা সম্পত্তি লাল বিন্দু দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানচিত্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য লাল বিন্দু এলাকায় দ্রুত পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরছে।
কাতেরিনি ও তাঁর সহযোগীদের দাবি, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে বিনিয়োগ করা অর্থের বড় অংশই ইসরাইলি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসেছে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, এলাকায় নতুন করে চালু হওয়া কোম্পানি পরিচালিত হোটেল ও ভাড়াবাড়ির অর্ধেকের বেশি ইসরাইলিদের মালিকানাধীন।
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যেখানে বিভিন্ন ভবনের বারান্দায় পতাকা ঝুলছে এবং দেয়ালে দেয়ালে প্রতিবাদী স্লোগান লেখা রয়েছে, সেখানে ইসরাইলি বিনিয়োগের বিষয়টি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
কাতেরিনি জানান, প্রতিদিন সকালে পর্যটকদের টেনে আনা স্যুটকেসের শব্দে তাঁর ঘুম ভাঙে। তাঁর সড়কের দুটি ভবন ইসরাইলি বিনিয়োগকারীরা কিনেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এমনকি তাঁর ফ্ল্যাটের ঠিক নিচের ফ্ল্যাটটিও একটি কোম্পানির মালিকানাধীন।
এলাকার বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ‘এয়ারবিএনবি আমাদের গৃহহীন করছে’—এমন স্লোগান দেখা যায়। কোথাও কোথাও ‘জায়নবাদীরা স্বাগত নয়’ লেখাও রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনের প্রবেশপথে বাসিন্দাদের নামের পরিবর্তে শুধু নম্বর দেখা যায়। বিশেষ কিপ্যাডের মাধ্যমে পর্যটকেরা চাবি সংগ্রহ করে এসব আবাসনে প্রবেশ করেন। প্রতিবাদ জানাতে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ভবনের প্রবেশপথ ও কিপ্যাডে লাল রং ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয় আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা এলাকায় দ্রুত অভিজাতকরণ ঘটাচ্ছে। এতে বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদ হচ্ছেন এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাচ্ছে।
গ্রিসের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিসের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আবাসন খাতে অনাবাসী বিদেশিদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। পরবর্তী বছর বিনিয়োগের গতি কিছুটা কমে।
এথেন্সে কোন দেশের নাগরিকেরা কত সম্পত্তি কিনছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জরিপে রাজধানীসংলগ্ন আতিকা অঞ্চলে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ইসরাইলিরা শীর্ষে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পরেই রয়েছেন তুরস্ক ও লেবাননের ক্রেতারা।
এক্সারখিয়ার রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৭৩ সালে কাছের এথেন্স পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। পরের বছর ওই সরকারের পতন ঘটে।
২০০৮ সালে এক্সারখিয়ায় পুলিশের গুলিতে ১৫ বছর বয়সী গ্রিক শিক্ষার্থী আলেক্সান্দ্রোস গ্রিগোরোপোলোস নিহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রিসের ঋণসংকট ঘিরে সৃষ্ট অসন্তোষ বামপন্থি দল সিরিজার উত্থানেও ভূমিকা রাখে। ২০১৫ সালে দলটি ক্ষমতায় আসে।
‘রাতারাতি ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ’
এক্সারখিয়ায় ২৪ বছর ধরে বসবাস করছেন ৪৬ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষক ক্রিসুল্লা পাপাগেওরগিউ। তাঁর স্মৃতিতে এলাকাটি ছিল পারস্পরিক সংহতি ও সামাজিক বন্ধনের একটি পাড়া।
পাপাগেওরগিউর ভাষ্য, শুরুতে পরিবর্তন ছিল ধীরগতির। বাড়ির মালিকেরা নিজেদের অতিরিক্ত কক্ষ ভাড়া দিতেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির পর বিভিন্ন কোম্পানি পুরো ভবন কিনতে শুরু করে। এর ফলে অনেক আবাসিক ভবন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসায় যুক্ত হয়।
তিনি বলেন, ‘রাতারাতি ভাড়াটিয়ারা উচ্ছেদ হয়েছেন, খালি হয়ে গেছে একের পর এক আবাসিক ভবন।’
একসময় শান্ত থাকা সড়কগুলোতে নতুন নতুন বার ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। ফুটপাতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে টেবিল-চেয়ার। বেড়েছে বাড়িভাড়া। প্রথমেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অভিবাসী ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। তাঁদের অনেকেই ভবনের বেজমেন্ট কিংবা নিচতলায় বসবাস করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসনব্যবস্থার এই পরিবর্তনে এলাকার সামাজিক জীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে পুরোনো বইয়ের দোকান, ঐতিহ্যবাহী ক্যাফে ও মুদির দোকান।
বছরের পর বছর এক্সারখিয়ার বাসিন্দারা বিভিন্ন দখল করা ভবনে শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছেন। পাপাগেওরগিউর দাবি, মূল্যবান জমিতে অবস্থিত এসব ভবনই ছিল পুলিশের উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম লক্ষ্য। পরে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘একসময় অর্ধেক ভবনই ছিল দখল করা আশ্রয়কেন্দ্র। এখন মাত্র একটি রয়েছে।’
সেই শেষ আশ্রয়কেন্দ্রটির দেয়ালে সংহতির বার্তা লেখা রয়েছে। প্রতিবেশীরা মিলে সেখানকার শিশুদের স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করেন।
২০২২ সাল থেকে এক্সারখিয়া চত্বর নতুন মেট্রো স্টেশন নির্মাণের জন্য ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই চত্বরের উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন অনেক বাসিন্দা। পাপাগেওরগিউর মতে, মেট্রো নির্মাণ ও পর্যটননির্ভর ব্যবসার বিস্তার মিলিয়ে এলাকার চেহারা বদলে যাচ্ছে। তাঁর ধারণা, এথেন্সের কেন্দ্রীয় এলাকাকে পুরোপুরি পর্যটননির্ভর করে তোলার প্রবণতা এর পেছনে কাজ করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকায় সম্পত্তি কিনতে আসা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ইসরাইলিদের সংখ্যা বেশি। চত্বরের কাছে একটি বড় ফিলিস্তিনি পতাকাও ঝুলছে। সেখানে কেউ কেউ ফিলিস্তিনবিরোধী বার্তা লিখে দিলে আন্দোলনকারীরা পরে সেগুলো মুছে দেন।
কাতেরিনির মতে, ইসরাইলের তুলনায় গ্রিসকে নিজেদের অর্থ রাখার নিরাপদ জায়গা হিসেবে দেখছেন কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারী। তাঁর অভিযোগ, গ্রিস সরকারের সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। গত আগস্টে গ্রিস ইসরাইলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি করে।
বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘দারুণ সুযোগ’ এক্সারখিয়া
এথেন্স-আতিকা রিয়েল এস্টেট এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের একটি শাখার প্রধান ভ্যাগেলিস লাজারিদিসের মতে, এক্সারখিয়ায় বিনিয়োগের পেছনে বাস্তব অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকাটি একসময় অবহেলিত ছিল। সে কারণে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করেছে। এথেন্সের কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান, মেট্রো স্টেশন এবং বিদেশি শিক্ষার্থীতে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নৈকট্য এলাকাটিকে সুবিধাজনক করে তুলেছে। এ ছাড়া শহরের কিছু ঐতিহাসিক এলাকার তুলনায় এখানে ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে বিধিনিষেধও কম।
লাজারিদিস বলেন, কয়েকজন ক্রেতা কোনো এলাকায় বিনিয়োগ শুরু করলে অন্য বিনিয়োগকারীরাও সাধারণত তাঁদের অনুসরণ করেন।
ইসরাইলিদের কাছে গ্রিসের আকর্ষণ কমাতে উদ্যোগ
আবাসনবাজারের উত্তাপ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে গ্রিস সরকার। প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস গত মাসে ঘোষণা দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর নাগরিকদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর কর আগামী বছরের জুলাই থেকে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে।
গ্রিসে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কিনে মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকায় দেশটি ইসরাইলি বিনিয়োগকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধি কার্যকর হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে লাজারিদিস জানান, রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তাঁর ধারণা, এটি কার্যকর না-ও হতে পারে কিংবা বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে।
এদিকে নতুন কর কার্যকরের নির্ধারিত সময়সীমার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কিছু ক্রেতা দ্রুত সম্পত্তি কেনার চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করছেন আবাসন খাতের এজেন্টরা।
‘এখন এয়ারবিএনবি অনেক কম’
তবে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সবাই মনে করেন না যে বিদেশি বিনিয়োগের এই প্রবণতা থামানো অসম্ভব।
ইউক্রেনের বাসিন্দা ইরিনা রন্দিয়াক এক্সারখিয়ার কাছে নিজের রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রায় এক দশক আগে ইসরাইলি ক্রেতারা এলাকায় আসতে শুরু করেন। তাঁর বিদেশি গ্রাহকদের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিলেন ইসরাইলি। তাঁদের অনেকেই পুরো অফিস ভবন কিনে হোটেলে রূপান্তর করতেন।
রন্দিয়াকের হিসাবে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর মোট সম্পত্তি বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশের সঙ্গে বিদেশি ক্রেতারা যুক্ত ছিলেন। কিন্তু চলতি বছর সেই হার কমে প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে।
এর পেছনে গ্রিস সরকারের তরুণদের জন্য চালু করা ‘স্পিতি মু’ বা ‘আমার বাড়ি’ নামের আবাসন ঋণ কর্মসূচি ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ গ্রিক নাগরিকেরা সরকারি সহায়তায় বাড়ি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। নতুন কিছু বিধিনিষেধও পরিস্থিতি বদলাতে ভূমিকা রেখেছে।
এথেন্সের কেন্দ্রীয় এলাকায়, এক্সারখিয়াসহ কিছু অঞ্চলে নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রিসের ‘গোল্ডেন ভিসা’ আবাসন কর্মসূচির আওতায় কেনা সম্পত্তি এখন থেকে শুধু দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া দেওয়া যাবে। তবে খালি অফিস ভবনকে আবাসিক ফ্ল্যাটে রূপান্তর করে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বিনিয়োগের তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল পথেও এই কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যায়।
রন্দিয়াক বলেন, ‘গ্রিসে বসবাস করেও মানুষ কেন্দ্রীয় এলাকায় থাকার মতো বাড়ি খুঁজে পেত না। সবকিছুই এয়ারবিএনবি হয়ে গিয়েছিল। এখন এ ধরনের ভাড়াবাড়ি অনেক কম।’
তাঁর মতে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। দক্ষিণের উপশহরগুলোতেও প্রতি বর্গমিটারে বাড়িভাড়া ১০ থেকে ১৫ ইউরো। করের বোঝার কারণে অনেক বাড়ির মালিক সম্পত্তি ভাড়া দেওয়াকে লাভজনক মনে করছেন না। ফলে অনেক ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে এখনো পুরোপুরি আশাবাদী নন। তাঁদের মতে, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীরা এখনো নানা উপায়ে বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন। তা ছাড়া এত দিনে এলাকার অনেক ভবনই স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে পরিণত হয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা অতীতে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
এক্সারখিয়ায় ফিরে পাপাগেওরগিউ নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন। তাঁর বাড়িওয়ালার পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। বাড়িওয়ালা ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাপাগেওরগিউর ভাষায়, এটি একধরনের ‘প্রতিরোধ’।
রসিকতা করে তিনি বলেন, বাড়িওয়ালার হিসাবরক্ষক তাঁকে জানিয়েছেন, ভাড়া না বাড়িয়ে তিনি যেন পুরো আবাসনবাজারটাই নষ্ট করে দিচ্ছেন।









