প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডকে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। সফরটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। তবে এর আগে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের স্বার্থের জন্যও ইতিবাচক নয়।
শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে সংযত ভূমিকা প্রত্যাশা করে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। ভারত যদি এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো সমস্যা থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ঢাকা আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় সমাধানে আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোনো দেশ থেকে এমন কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত নয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা যেমন বাংলাদেশের মাটিতে বসে ভারতের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড হতে দিতে চায় না, তেমনি ভারতও একই ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে।
তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে সফরটি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী কখনো ভারত সফর করবেন না—এমন কোনো অবস্থান নেননি বলেও জানান তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে আলোচনার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।
তার মতে, দুই দেশের সরকার জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আলোচনায় বসলে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথ বের করা সম্ভব। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে।








