রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যান এবং এর প্রাঙ্গণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আধুনিকায়নের কাজ শেষ হওয়ায় দীর্ঘদিন পর নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্যানটির উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে লেক, ফোয়ারা, আধুনিক লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, হাঁটার পথ ও শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

উদ্যানের মূল প্রবেশপথটি পুলিশ সদর দপ্তরের বিপরীত পাশে। প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকলে বাম পাশে রয়েছে লেক, আর মাঝখানে রয়েছে ফোয়ারা। এ ছাড়া উদ্যানের ভেতরে আধুনিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম ও ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লাইব্রেরির আগে বাম পাশের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলে ভবিষ্যতে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে।

উদ্যানের মাঝামাঝি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। এর চারপাশ পাকা করা হয়েছে এবং মাঝখানে স্টিলের পাতের ওপর জুলাই আন্দোলনে শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের রেলিংয়ের ভেতরের অংশে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনাচিত্র স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এর সামনেই রয়েছে কয়েকটি প্রতীকী কবর। পাশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হাঁটার পথ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্যানটিকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করতে নতুন করে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে। রাজধানীবাসী যেন নিয়মিত হাঁটাচলা ও বিশ্রামের সুযোগ পান, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছে পুরো উদ্যান। পাশাপাশি পুরোনো লেকটিও সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

উদ্যানটির উন্নয়নকাজ শেষে নগরবাসীর জন্য বিনোদন, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর একটি আধুনিক উন্মুক্ত স্থান তৈরি হয়েছে।