দেশের সড়কে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু। নিহতদের মধ্যে ৩৭ শতাংশের বেশি শিশু ছিল মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২ হাজার ৮১২ শিশুর।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। প্রতিবেদনে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের ৩৪ শতাংশের বেশি মারা গেছে গ্রামীণ সড়কে। বয়সভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে। এ বয়সের ৩ হাজার ৫৪৭ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৫১৩ শিশু।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়কে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অসচেতনতা, অদক্ষ চালক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যানবাহন চালানোর প্রবণতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশেষ করে কিশোরদের মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে বয়স, চালনার দক্ষতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। সড়কে নিরাপদ চলাচলের নিয়ম না মানলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা বেড়ে যায়।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। আইন লঙ্ঘনকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পার হওয়া, ফুটপাত ব্যবহার করা এবং ট্রাফিক সংকেত মেনে চলার নিয়ম শেখানোর ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।