দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় লটারির মাধ্যমে পদায়ন পাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য দ্রুত ‘মিউচুয়াল ট্রান্সফার’ বা পারস্পরিক বদলি চালুর দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে প্রার্থীরা জোরালো দাবি জানালে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

‘সহকারী শিক্ষক ২০২৫ ব্যাচ’-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের পারস্পরিক বদলির ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লটারির মাধ্যমে পদায়নের কারণে অনেক শিক্ষক নিজ বাড়ি থেকে দূরে এবং দুর্গম এলাকায় কর্মস্থল পেয়েছেন। এতে তাঁদের যাতায়াত, বাসস্থান, পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চর ও হাওরাঞ্চলের মতো যোগাযোগব্যবস্থা অনুন্নত এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নারী শিক্ষকদের পারিবারিক দায়িত্ব, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিষয়গুলো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে সহজ নিয়ম বা অগ্রাধিকার চালুর অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

শিক্ষকদের মতে, যাতায়াতজনিত ভোগান্তি কমানো গেলে তাঁরা মানসিকভাবে স্বস্তিতে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশেও।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, যেসব জায়গায় পদ শূন্য ছিল, সেসব জায়গায় শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে। প্রার্থীদের ক্যাচমেন্ট এরিয়া অনুযায়ী যেসব বিদ্যালয়ে পদ খালি ছিল, সেখানেই তাঁদের পদায়ন করা হয়েছে। এরপরও প্রার্থীরা জোরালো দাবি জানালে বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকরা বলেন, লটারিতে পদায়ন পাওয়া শিক্ষকদের জন্য স্বচ্ছ, সহজ ও দ্রুত পারস্পরিক বদলির ব্যবস্থা চালু করা হলে কর্মজীবনের শুরুতেই তাঁদের অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যাগুলো মানবিকভাবে বিবেচনা করা হলে তাঁরা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আত্মনিয়োগ করতে পারবেন।

শিক্ষকদের পারস্পরিক সম্মতি, কর্মস্থলসংক্রান্ত বাস্তব সমস্যা এবং নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।