বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ‘মুরাসু’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত আইএমডির বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি ২ নভেম্বর সকালে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

কোথায় আঘাত হানতে পারে?

আইএমডির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ২ নভেম্বর রাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

‘মুরাসু’ নামের অর্থ কী?

‘মুরাসু’ একটি তামিল শব্দ। এর অর্থ ঢোল বা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, যা প্রাচীনকালে যুদ্ধের ঘোষণা, জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রচারে ব্যবহার করা হতো।

নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত। প্রাচীন তামিল সংস্কৃতিতে ‘বীরা মুরাসু’ যুদ্ধের ঘোষণা, ‘ত্যাগা মুরাসু’ দান বা সহায়তার আহ্বান এবং ‘ন্যায় মুরাসু’ বিচারসংক্রান্ত বার্তা প্রচারে ব্যবহৃত হতো।

উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ওড়িশায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। ৩ ও ৪ নভেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।