সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আদালতে এ রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, খন্দকার আব্দুল হাফিজ তাঁর সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষসহ অন্য আসামিদের সহায়তায় সরকারবিরোধী বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছিলেন। পাশাপাশি সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতো ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছিল। এসব যোগাযোগের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনটির পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস অপরাধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ‘খন্দকার এ হাফিজ’ নামের ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন পেজ থেকে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রকাশ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, কুৎসামূলক প্রচারণা এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে আসামির যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মতো কনটেন্ট প্রকাশ এবং ফেসবুক আইডির মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে মামলায়।
এর আগে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন হাফিজসহ সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা।
হাফিজ আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এ ছাড়া তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।








