বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় জেরিকা তাসনিম দিশাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। ঘটনার আগে তাহসিফের সঙ্গে দিশার চলাফেরা, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তাঁদের মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং এ মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখতে চান তদন্ত কর্মকর্তা।

ঢাকা মহানগর আদালতে দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে আবেদনে ছয়টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঘটনার রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরা এলাকার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন দিশা। ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁরা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে যান। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাহসিফের সঙ্গে দিশাকে দেখা গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেছিলেন দিশা। তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, এ মামলার সন্দেহভাজন আরেক আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করা প্রয়োজন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

দিশাকে রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে পুলিশের ৬ কারণ

পুলিশের আবেদনে দিশাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে ছয়টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো—

1. তাহসিফ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা।

2. হত্যাকাণ্ডে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা।

3. মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা।

4. হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ করা।

5. দিশা ও দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করা।

6. দিশার দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা পরীক্ষা করা।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দিশা জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে গিয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জানান, ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে রাজধানীর কাফরুলে নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বয়স ১৯ বছর। এ মামলায় এর আগে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। পরদিন টঙ্গীর কাছে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।