আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

জামিন আবেদনে আসামিপক্ষের দাবি করা হয়, গাজী নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য তাঁকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ৭৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জটিল হৃদরোগে ভুগছেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি আত্মগোপন করবেন না বা এলাকা ছেড়ে যাবেন না। একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী আপসের শর্তে জামিন পেয়েছেন উল্লেখ করে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকেও জামিন প্রার্থনা করা হয়।

এর আগে একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

সেদিন রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরদিন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই মামলায় গ্রেপ্তার ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়।